Diabetes: রোজ প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে অভ্যস্ত? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন ডায়াবেটিস, জানুন প্রতিরোধের উপায়

By Bhagysree Sarkar

Diabetes: ক্রমশ ভারতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের (Type 2 diabetes) প্রকোপ বাড়তে চলেছে। এটি আবার "নীরব মহামারী" (silent epidemic) নামেও পরিচিত। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা ICMR দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই সমস্যার আগুনে ঘি ঢালছে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা। প্যাকেটজাত, রেডি টু ইট খাদ্যদ্রব্যে (Packaged, ready-to-eat food products) থাকে রিফাইন্ড সুগার, অস্বাস্থ্যকর চর্বি সহ অন্যান্য ক্ষতিকর কৃত্রিম পদার্থ। এই সমস্ত খাবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে প্রতিবছর ডায়াবেটিস (diabetes) রোগীর সংখ্যা। শুধু শহর নয়, গ্রামবংলাতেও এই সমস্যা বাড়ছে হু হু করে।

. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কী?

আল্ট্রা-প্রসেসড ফুডস (Ultra-processed foods) যা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফর্মুলেশন নামে পরিচিত। এটি প্রক্রিয়াকরণের একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে পরিশ্রুত চিনি, নুন, ট্রান্স ফ্যাট এবং কৃত্রিম প্রিজারভেটিভের মতো উপাদান। যা স্বাদ, শেলফ লাইফ বাড়াতে এবং পণ্যটিকে আরও সুস্বাদু করতে ব্যবহার করা হয়। কিছু সাধারণ অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে এই ফাস্ট ফুডগুলি, যা প্রায়ই ক্যালোরি-ঘন কিন্তু পুষ্টি নেই বললেই চলে। এগুলিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের অভাব থেকেই যায়। যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক-

Diabetes

ছবি সৌজন্য- pexels

. চিনিযুক্ত পানীয় এবং এনার্জি ড্রিংকস

. বেকারি আইটেম যেমন কেক, কুকিজ এবং বিস্কুট

. প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ, নাগেটস এবং হিমায়িত প্যাটি ইত্যাদি

. চিপস ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস

. ইনস্ট্যান্ড নুডলস এবং স্যুপ

কীভাবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার ডায়াবেটিসে অবদান রাখে-

ICMR দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি সরাসরি ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন প্রতিরোধের এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এগুলি সবই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে উল্লেখযোগ্য অবদানকারী। তাই এগুলি নিয়ে সতর্ক হওয়ায় বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।


. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে কার্বোহাইড্রেট এবং শর্করা বেশি থাকে, সেগলি রক্তে শর্করার মাত্রা ঘন ঘন বৃদ্ধি করে। সময়ের সঙ্গে যা ইনসুলিন প্রতিরোধক হিসেবে পরিণত হয়। অর্থাৎ শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি কার্যকরীভাবে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। আর যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।

. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের উচ্চ ক্যালোরি সামগ্রী রয়েছে। যা স্থূলতার দিকে পরিচালিত করে। এটি ডায়াবেটিসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। এই খাবারগুলি প্রায়শই ফাইবারবিহীন থাকে, যা আমাদের অতিরিক্ত খাওয়াকে উৎসাহিত করে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণে অবদান রাখে।

. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের অত্যধিক ব্যবহার প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে পরিচালিত করে। ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্যের মতো সম্পূর্ণ খাবার, যা ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্পন্ন, তা ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, এমন খাবার খাওয়া উচিত।

কীভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ (How to prevent diabetes) করবেন?

. আপনার ডায়েটে সম্পূর্ণ, অপ্রক্রিয়াজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। যেমন ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং লেবু। এই খাবারগুলি ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ। যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে।

. প্যাকেটজাত খাবার কিনলে তার উপাদানগুলির প্রতি খেয়াল রাখুন। এর পিছনে থাকা শর্করা, ট্রান্স ফ্যাট এবং কৃত্রিম সংযোজনগুলি খুঁজে বের করুন। কম উপাদান এবং সম্পূর্ণ খাদ্য উৎস থেকে তৈরি পণ্যগুলিকে অগ্রাধিকার দিন। ফল, সবজি বা বাড়ির বানানো খাবার বেছে নিন।

. মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করার জন্য কমপক্ষে সরাদিনে ৩০ মিনিটের জন্য হলেও ব্যায়াম করুন। এরমধ্যে রয়েছে, হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মত সামান্য ব্যায়ামগুলিও।

. চিনিযুক্ত পানীয়, প্যাকেজড স্ন্যাকস এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত বেকারি আইটেম এড়িয়ে চলুন।

. এছাড়াও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষিত করা উচিত। এজন্য সরকার এবং স্বাস্থ্য সংস্থাগুলির সচেতনতামূলক প্রচার করেছে। যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমাবে।

Story first published: Sunday, February 16, 2025, 16:08 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion