ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটের মধ্যে পার্থক্য কী? স্বাস্থ্যের পক্ষে কোনটি ভাল? জেনে নিন

সব ফ্যাট কিন্তু খারাপ নয়! এই 'ফ্যাট' শব্দটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত, তবে গুড ফ্যাট বলেও কিন্তু একটি বাক্যাংশ বর্তমান। ফ্যাটকে ভাল এবং খারাপ, এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স-ফ্যাটি অ্যাসিডকে খারাপ ফ্যাটের আওতায় ফেলা হয়, যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর থেকে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়, ধমনী আটকে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার মনো-স্যাচুরেটেড এবং পলি-স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিন্তু ভালো ফ্যাট হিসেবে বিবেচিত। এটি হার্ট ভাল রাখার পাশাপাশি, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করে।

Difference between omega-3 and omega-6 fats

আজ এই আর্টিকেলে এমনই দুটো ভালো ফ্যাট, ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জানাব।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হল আনস্যাচুরেটেড। ওমেগা-৩ মাছের তেলে বেশি পাওয়া যায়। এটি হার্ট, যকৃত, ফুসফুস, রক্তনালী স্বাস্থ্যকর রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোষ প্রাচীরের গঠনও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দ্বারা বজায় থাকে। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই ফ্যাটি অ্যাসিড প্রধানত তিন প্রকারের হয় -

-ALA ( Alpha Linolenic Acid)

-DHA (Docosahexaenoic acid)

-EPA (Eicosapentaenoic Acid)

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রধান উৎস হল মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার। বিশেষ করে স্যালমন, ম্যাকারেল, টুনা এবং সার্ডিন-এর মতো ঠান্ডা জলের মাছ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং বাদামও এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যেমন - আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, ইত্যাদি। তাই এগুলি নিয়মিত খাওয়া উচিত। উদ্ভিজ্জ তেল যেমন ফ্ল্যাক্সসিড তেল, সয়াবিন তেল এবং ক্যানোলা তেল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দুর্দান্ত উৎস।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারিতা

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারিতা

ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ ডায়েট হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারি। যারা কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত তাদের জন্যও এটি অত্যন্ত উপকারি। এটি রক্তের প্লেটলেটগুলিকে একত্রিত হতে বাধা দেয়, চোখের জন্য ভাল এবং মানসিক ব্যাধি যেমন উদ্বেগ ও বিষন্নতা প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের তুলনায়, ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড জনসাধারণের কাছে কম পরিচিত। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডও এক ধরনের স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। ওমেগা ৩ ফ্যাটের মতো, আমাদের শরীরে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডেরও প্রয়োজন আছে, যা জিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রধানত চার ধরনের -

-LA (Linoleic Acid)

-ARA (Arachidonic Acid)

-GLA (Gamma linolenic Acid)

-CLA (Conjugated linolenic acid)

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

গাঁজা বা ভাং, সূর্যমুখীর মতো বীজ ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। অ্যাভোকাডো তেল, সানফ্লাওয়ার তেল, সয়াবিন তেল, কর্ন অয়েল, safflower তেলও ওমেগা ৬ সমৃদ্ধ। এছাড়া, আখরোট ও কাজুর মতো বাদামও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। ডিমও ওমেগা ৬-এর দুর্দান্ত উৎস।

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারিতা

ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারিতা

ফ্যাটি অ্যাসিড হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে দুর্দান্ত সহায়ক। তাছাড়া এটি শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ওমেগা ৬ ত্বক এবং চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে, হাড় সুস্থ রাখে, মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রজনন ব্যবস্থাকেও মেনটেন করতে সহায়তা করে।

Story first published: Tuesday, December 28, 2021, 13:50 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion