দীপাবলির সময় আমরা যে ভুল খাদ্যাভ্যাসগুলি তৈরি করে ফেলি

By Anindita Sinha

দীপাবলি আনন্দ, ভালবাসা, ঐক্য এবং উৎসবমুখর সময়। নানান রকমের খাবার আর মিষ্টি, যেগুলি আদতে আমাদের শরীরের পক্ষে খারাপ, সেইসবের মোহে পরে যাওয়ারও সময় বটে এটা। এইসব গুরুপাক খাবার আর পানীয় সেবনের সাথে সাথে মানুষেরা নিজেদের সুস্থ্য রাখার জন্য শরীরচর্চা করতেও ভুলে যায়। এইসব অনিয়ম, ওজন, কোলেস্টরল ও ব্লাড প্রেসার বারিয়ে দেয়, ফলে তা অনেকসময়ই হার্ট অ্যাটাক বা পেটের সমস্যার সৃষ্টি করে।

উৎসবের এই মরশুমে অতিরিক্ত খাবার ও পানীয় সেবন না করাই ভাল। এই আসক্তি শরীরের সমস্ত অঙ্গের ক্রিয়া-কলাপের ওপর প্রভাব ফেলে ও শরীরকে অলস এবং দুর্বল করে দেয়। আরেকদিকে আবহাওয়াও শরীরকে অলস বানাতে একটা মূখ্য ভূমিকা নেয়। শীতকাল, আপনার দেহের বিপাকক্রীয়ার হার কমিয়ে দেয় এবং তার ফলে আপনার শরীরের পক্ষে ফ্যাটি-অ্যাসিডের দহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে দীপাবলির সময়ে মানুষেরা অনেকগুলি ভুল খাদ্যাভ্যাস তৈরি করে থাকে।

তাজা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরিবর্তে তারা তৈলাক্ত ও উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার খেতেই তৎপর থাকে।

একইরকমভাবে, জল বা ফলের রস যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল তার পরিবর্তে, তারা গ্যাস মেশানো পানীয়কেই বেছে নেয়।

আজ, বোল্ডস্কাই আপনাদের পরামর্শ দেবে এইসব অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দুরে থাকতে ও এইসব ভুল খাদ্যাভ্যাসগুলি ভুলে যেতে।

গমের তৈরি মিষ্টি খানঃ

গমের তৈরি মিষ্টি খানঃ

সাদা চিনি বা ময়দার তৈরি মিষ্টি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় আমরা ভুল করি এবং গম ও বার্লির তৈরি স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলিকে এড়িয়ে যাই।

সাদা চিনির মিষ্টিঃ

সাদা চিনির মিষ্টিঃ

সাদা চিনির মিষ্টি খাওয়া খুবই হানিকর। চিনিতে সালফার আছে, যা হার্ট এবং ব্রেইন এর ক্ষতি করতে পারে। জামুন বা পায়েস জাতীয় এড়িয়ে চলুন।

কৃত্রিম রংঃ

কৃত্রিম রংঃ

ঘরে মিষ্টি তৈরি করাই সবথেকে ভাল পন্থা। ঘরে তৈরি মিষ্টিতে কৃত্রিম রং বা কৃত্রিম মিষ্টি থাকেনা। যেসব খাবারে কৃত্রিম রং থাকে, সেগুলি বেশি পরিমানে খেলে, তা শরীরে ক্যানসারের কোষকে সক্রিয় করে তোলে। এটি আরেকটি ভুল খাদ্যাভ্যাস যা আমাদের দীপাবলিতে এড়িয়ে যেতে হবে।

তেলের পুনঃব্যবহারঃ

তেলের পুনঃব্যবহারঃ

দীপাবলিতে আমরা আরেকটা যেটা ভুল করে থাকি তা হল, ভেজিটেবল ওয়েল এর পুনঃব্যবহার। পুনঃব্যবহৃত তেলে এমন কিছু র্যাডিক্যালস থাকে, যা আমাদের দেহের সুস্থ্য কোষগুলিকে আক্রমণ করে, যা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ভাজাভুজি বা চানাচুরঃ

ভাজাভুজি বা চানাচুরঃ

ভাজাভুজি খাওয়ার পরিমান কম করতে হবে। মিষ্টির পাশাপাশি ভাজাভুজি বা চানাচুর, দীপাবলিতে একটা জনপ্রিয় খাবার। চানাচুর জাতীয় জিনিসে, ড্রাই ফ্রুটস ও গমের জিনিস অনেক বেশি পরিমানে থাকে, যা ক্যালোরি বারায় এবং এই কারণেই এগুলি খাওয়া স্বাস্থ্যকর না।

গ্যাস মেশানো পানীয়ঃ

গ্যাস মেশানো পানীয়ঃ

দীপাবলি খাওয়া-দাওয়ার উৎসব হওয়াতে, অনেকেই এই সময় জল বা ফলের রসের পরিবর্তে, গ্যাস মেশানো পানীয়কেই বেছে নেয়। তাজা ফলের রস দেহের থেকে টক্সিন দূর করে, সেখানে সোডা ওয়াটার শুধুমাত্র নানান রকম শারীরিক সমস্যারই সৃষ্টি করে; তাই এই খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

খাবারে ফাইবারের অভাবঃ

খাবারে ফাইবারের অভাবঃ

দীপাবলিতে আমরা আরো একটি যে ভুল করে থাকি তা হল, পর্যাপ্ত পরিমানে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাই না। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের অভাবে বিভিন্ন পেটের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে উৎসবের দিনে তৈরি খাবারে, গম, ব্রাউন রাইস ও ওট্‌স মিশিয়ে দিন।

খাবার খাওয়াতে সংযম আনাঃ

খাবার খাওয়াতে সংযম আনাঃ

উৎসবের খাবারগুলি পরিমিত পরিমানে খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অত্যাধিক পরিমানে, মিষ্টি বা ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেলে তা শরীরের বিপাকক্রিয়ার হারকে কমিয়ে দিয়ে, আপনাকে ক্লান্ত ও অলস করে দেবে।

শরীরচর্চা করতে ভুলে যাওয়াঃ

শরীরচর্চা করতে ভুলে যাওয়াঃ

উৎসবের দিনগুলিতেও শরীরচর্চার জন্য সময় বের করে নিন। নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, দেহে ফ্যাটি টিসু গড়ে তোলে। এই ফ্যাটি টিসু হার্টের চারাপাশে আস্তরণ তৈরি করে, যা হার্ট অ্যাতাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

X
Desktop Bottom Promotion