আপনি ভেজাল দুধ খাচ্ছেন না তো? দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে জানার বেশ কিছু কার্যকরি উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

Posted By:
Subscribe to Boldsky

আমৃত্যু এই একটা জিনিস আমরা সকলেই পান করে থাকি। কেন করবো না বলুন! শরীর সুস্থ রাখতে দুধের যে কোনও বিকল্প নই। কিন্তু ভয়ের বিষয় কী জানেন, আজকাল দুধেও ভেজাল মেশাতে পিছপা হচ্ছেন না একদল কুচক্রি। ফলে এই পানীয়ের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পরছে একাধিক রোগ। তাই সাবধান হওয়াটা জরুরি! না হলে কিন্তু...

তবে খালি চোখে কোন দুধটা ভাল, আর কোনটা খারাপ, সেটা বোঝা সম্ভব নয়। তাই তো এই প্রবন্ধে ভেজাল দুধ চেনার বেশ কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এবার থেকে দুধ খাওয়ার আগে অবশ্য়ই এই পরীক্ষাগুলি করে একবার দেখে নেবেন দুধে কোনও অপুষ্টিকর উপাদান মেশানো রয়েছে কিনা। না হলে কিন্তু আপনার অজান্তেই শরীর গঠনের পরিবর্তে শরীর ভাঙতে শুরু করবে। আর সেক্ষেত্রে কিছুই করার থাকবে না আপনার।

দা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অ্যাথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এই এস এস এ আই) এইসব ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে মান্যতা দিয়েছে। তাই আর দেরি না করে নিজের এবং পরিবারের বাকি সদস্য়দের শরীরের কথা ভেবে এখনই জেনে নিন ভেজাল দুধ চেনার সহজ কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে।

পরীক্ষা ১:

পরীক্ষা ১:

পরিমাণ মতো দুধ একটা বাটিতে নিয়ে অল্প আঁচে কম করে ২-৩ ঘন্টা ধীরে ধীরে ফোটাতে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন, নিদির্ষ্ট সময়ের পর দুধটা আর তরল থাকবে না। সেটা খোয়া ক্ষীরে পরিণত হয়েছে। তখন যদি দেখেন ক্ষীরটা খুব শক্ত হয়ে গেছে, তাহলে বুঝবেন দুধটা ভেজাল ছিল। আর যদি দেখেন ক্ষীরটা একটু তেল তেলা মতন হয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে সেই দুধে কোনও ভেজাল উপাদান মেশানো ছিল না।

পরীক্ষা ২:

পরীক্ষা ২:

আজকাল দুধে নানা ধরনের ক্যামিকেল, এমনকী সাবান মিশিয়েও দুধকে ঘন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের দুধকে সাধারণত "ক্যামিকেল দুধ" বলে চিহ্নিত করে থাকেন চিকিৎসকেরা। এমন দুধ ফোটালেই হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে যায়। এবার থেকে তাই দুধ ফোটানোর সময় যদি দেখেন দুধের সাদা ভাব ধীরে ধীরে বদলে ফ্যাকাসে হলুদ রঙের হয়ে গেছে তাহলে ভুলেও সেটি মুখে তুলবেন না।

পরীক্ষা ৩:

পরীক্ষা ৩:

দুধে জলে মেশানো তো কোন কাল থেকে হয়ে আসছে। সে সম্পর্কে জানেন না এমন লোকের সংখ্যা নেহাতিই কম। আসলে জল শরীরের পক্ষে কোনও ভাবেই ক্ষতিকর নয়। তাই তো দুধে জল মেশানোর বিষয়ে সবাই জেনেও সেভাবে ভাবিত হন না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রেও একটা উপায় রয়েছে যাকে কাজে লাগিয়ে জেনে যাওয়া সম্ভব দুধে আদৌ জল মেশানো হয়েছে কিনা। কীভাবে এমনটা সম্ভব? হাতের উপরে এক ড্রপ দুধ ফেলার পর যদি দেখেন দুধের ফোঁটাটা পেছনে রেখা তৈরি করে গড়িয়ে পরে যাচ্ছে, তাহলে বুঝবেন সেই দুধে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ জল মেশানো হয়েছে। আর যদি উল্টো ঘটনা ঘটে, তাহলে চিন্তার কোনও কারণ নেই।

পরীক্ষা ৪:

পরীক্ষা ৪:

দুধকে পরিমাণে বাড়াতে এবং লাভের অঙ্ক আকাশ ছোঁয়া করতে একদল কুচক্রি আজকাল দুধে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বনস্পতি বা ডালডা মিশিয়ে থাকেন। আপাত দৃষ্টিতে এই দুই উপাদান ক্ষতিকারক মনে না হলেও একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে বেশি মাত্রায় ডালডা বা বনস্পতি জাতীয় উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, ডলডায় উপস্থিত ট্রান্স ফ্যাটের কারণে ব্রেস্ট এবং ইন্টেস্টাইনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই তো এই ধরণের ভেজাল দুধ খাওয়া শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল ন। কিন্তু প্রশ্ন হল, বুঝবেন কীভাবে যে দুধে ডালডা বা ঐ জাতীয় কোনও উপাদান মেশানো আছে? একটা সহজ উপায় আছে বৈকি! ১ চামচ দুধ নিয়ে তাতে ২ চামচ হাইড্রোক্লরিক অ্যাসিড এবং ১ চামচ চিনি মেশান। কিছু সময় পরে যদি দেখেন মিশ্রনটি লাল রঙের হয়ে গেছে তাহলে বুঝবেন ঐ দুধে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ডালডা মেশানো ছিল।

পরীক্ষা ৫:

পরীক্ষা ৫:

দুধে অনেকে নানা ধরনের স্টার্চও মিশিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ৫ এম এল দুধ নিয়ে তাতে ২ চামচ নুন ফেলে দেখুন তো দুধটা নীল রঙের হয়ে যাচ্ছে কিনা। যদি দেখেন এমনটা হচ্ছে, তাহলে মনে কোনও সন্দেহ রাখবেন যে ঐ দুধটা ভেজাল।

পরীক্ষা ৬:

পরীক্ষা ৬:

দুধকে অনেকক্ষণ তাজা রাখতে অনেকেই এতে ফরমালিন নামে একটি উপাদান মিশিয়ে থাকেন। কিন্তু কী পরিমাণে এই উপাদানটি মেশানো উচিত, তা অনেকেই জানেন না। ফলে বেশি মাত্রা ফরমনিল মিশিয়ে দুধের গুণাগুণকেই নষ্ট করে দেন অনেকে। শুধু তাই নয়, ফরমালিনের প্রভাবে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। যেমন- চোখ থেকে জল পরা, গলায় এবং নাকে জ্বালা করা, কাশি, মাথা ঘোরা, ত্বকে মারাত্মত জ্বালা ভাব প্রভৃতি। তাই তো এবার থেকে দুধ কেনার পরপরই দেখে নেবেন তাতে বেশি মাত্রায় এই উপাদানটি রয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে মাত্র ১০ এম এল দুধে ২-৩ চামচ সালফিউরিক অ্যাসিড মিশিয়ে নিন। কিছু সময় পরে যদি দেখেন মিশ্রনটির উপরের দিকে নীল রঙের আংঠির মতো গোলাকার অবয়ব তৈরি হয়েছে তাহলে সেই দুধ খাওয়া একেবারেই খাওয়া চলবে না।

পরীক্ষা ৭:

পরীক্ষা ৭:

দুধের পরিমাণ বাড়াতে বেশিরভাগই তাতে ইউরিয়া মিশিয়ে থাকেন। কেন এমনটা করে জানেন? কারণ ইউরিয়া মেশানোর পর দুধের স্বাদে কোনও পরিবর্তন আসে না। তাই তো আমরা অনেকেই না বুঝে এমন ভেজাল দুধ বছরের পর বছর খেয়ে যাই। বুঝতেও পরি না যে আমাদের শরীরে কোনও পুষ্টি নয়, ঢুকছে হাজারো ভেজাল উপাদান। চিন্তা নেই এমন ভেজাল দুধকেও চিনে ফেলা সম্ভব। কীভাবে? এক চামচ দুধের সঙ্গে এক চামচ সোয়াবিন বা অরহর ডালের গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রনটিকে ভাল ভাবে নারাতে থাকুন। ৫ মিনিট পরে তাতে লিটমাস কাগজ চুবিয়ে ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে যাওয়ার পর যদি দেখেন মিশ্রনটি লাল থেকে নীল হয়ে যাচ্ছে। তাহলে বুঝবেন ঐ দুধে ইউরিয়া মেশানো রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে সমগ্র এশিয়া মহাদেশে যে পরিমাণ দুধ প্রতিদিন বিক্রি করা হয় তার ৫০-৬৫ শতাংশই ভেজাল হয়। তাই এখন থেকেই সাবধান হন, না হলে কিন্তু ঘোর বিপদ!

English summary
Milk is a common drink of our daily diet. But not every-time the milk we take is pure; it may have urea, formalin, vanaspati, starch and water as impurity. Packed milk from reputed brands as well as milk purchased from milk-vendors can be adulterated so its important to check for them before consuming.
Please Wait while comments are loading...