ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ, জেনে নিন সাধারণ লক্ষণগুলি

By Bhagysree Sarkar

চাঁদিপুরা ভাইরাস নিয়ে ফের বাড়ছে আতঙ্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৭ সালে যে সব রোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছে, সেই তালিকায় এই রোগটিও সামিল রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য চাঁদিপুরা ভাইরাস (সিপিএইচভি) কেসের আকস্মিক প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সূত্র অনুসারে খবর, এই সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ বেড়েছে এবং সংক্রমণের সংখ্যা একদিনে ৩৭জনে পৌঁছিয়েছে।

গুজরাট স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুসারে, বৃহস্পতিবার গুজরাটে ২৩ টি কেস রিপোর্ট করা হয়েছিল। যার পর হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে সংখ্য়া। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্য রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ থেকেও সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। যা বৃহত্তর পরিসরে একটি প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ১৯শে জুলাই মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগ রাজ্যে এই ভাইরাসের বিস্তার এবং প্রাদুর্ভাব পোড়ানোর জন্য একটি পরামর্শ জারি করেছে।

Virus

পুনে মিউনিসিপ্যানল কর্পোরেশনের রিপোর্ট অনুসারে, ইতিমধ্যেই সরকারি তরফ থেকে নজরদারি এবং পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। ভাইরাস নির্মূলের পাশাপাশি কর্মকর্তারা এনসেফালাইটিসের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। চণ্ডীপুরা ভাইরাস এনসেফালাইটিস রোগের কারণ হতে পারে, যা মৃত্যুর কারণও। এই ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে রিপোর্ট অনুসারে, এই ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল চাঁদিপুরা গ্রামে। যার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে, চাঁদিপুরা ভাইরাসকে একটি আরবোভাইরাস হিসাবে ভারতে নতুন হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। বিগত এতগুলি বছরে, এই ভাইরাসটি ভারতের কিছু রাজ্যে বিক্ষিপ্তভাবে প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে। এর পুনরুত্থানের আসল কারণ এখনও বিশেষজ্ঞদের কাছে অস্পষ্ট।

গবেষণায় জানা যায়, এই ভাইরাসটি কয়েকটি স্তন্যপায়ী ভাইরাসগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল। যা ভাইরাল সংক্রমণের ফলে হোস্ট কোষে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালে মধ্য ভারতে সিএইচপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মোট ৩২২ টি শিশু মারা গিয়েছিল। অন্ধ্র প্রদেশে ১৮৩ জন, মহারাষ্ট্রে ১১৫ জন এবং গুজরাটে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৩ সালে অন্ধ্র প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের ৩২৯ জন শিশু সিপিএইচভি-এর জন্য ইতিবাচক পরীক্ষা করেছিল এবং ১৮৩ জন মারা গিয়েছিল। ২০১০ সালে এই সংক্রমণের কারণে গুজরাটে প্রায় ১৭ জন মারা গিয়েছিল। আবার ২০২৪ এ এই সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

  • এই সংক্রমণের লক্ষণ কী-

সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে দ্রুত জ্বর, বমিভাব, পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা, খিঁচুনি, ডায়রিয়া, স্নায়বিক ঘাটতি এবং মেনিনজিয়াল ইরিটেশনের লক্ষণ। ভাইরাসটি প্রধানত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রভাবিত করে। যা বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায়। বেশিরভাগ আক্রান্ত শিশুর দ্রুত অবনতি ঘটে, হাসপাতালে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে।

বর্তমানে চাঁদিপুরা ভাইরাসের জন্য কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন উপলব্ধ নেই। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং সহায়ক যত্ন, যেমন শ্বাসনালী পরিচালনা, তরল ভারসাম্য এবং সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ, রোগীর ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য।

Story first published: Friday, July 26, 2024, 14:45 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion