Health: একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও নাকি যুক্ত প্রোটিনের সাথে! কী বলছে হু-এর গবেষণা?

By Bhagysree Sarkar

Health: বয়স বাড়ার সঙ্গেই আমাদের শারীরিক ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা লোপ পায়। এদিকে এই আধুনিক যুগে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন। বিশেষ করে অবসর জীবনে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দেখা মেলে বেশি। যা ধীরে ধীরে আমাদের একাকীত্ব ও মানসিক অবসাদের (Loneliness and depression) দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

যা পরিবারে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের ভাষায়, বাড়ির যেসমস্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা ডিমেনশিয়ার শিকার (dementia), তারা চিন্তা বাড়িয়ে তোলে সন্তানদের। তবে বর্তমান যুগে একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি উদ্বেগজনক হলেও কিন্তু সাধারণ বিষয়।

cancer

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, এই অনুভূতিগুলি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে যতদিন যাচ্ছে। প্রায় ২৫% বয়স্ক মানুষ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন। পাশাপাশি ৫%-১৫% কৈশোর ও যৌবনেরা একাকীত্ব অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গবেষণা অনুসারে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্ব (Social isolation and loneliness) একাধিক রোগব্যাধী এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে যুক্ত। মূলত ২০২২ এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি ২৬% থাকে। আর এটিও প্রমাণিত যে, একাকীত্ব বিষণ্নতার সাথে যুক্ত।

তবে নতুন একটি গবেষণা বলছে, একাকীত্ব কেবলমাত্র আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি সংক্রমণের কারণও হতে পারে। সম্প্রতি আমেরিকার কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও চিনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের একত্রিত গবেষণায় ৪২ হাজার জনেও বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তের নমুনা ও ২৯২০ জনের প্লাজমা প্রোটিন পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আমাদের রক্তের বিভিন্ন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত (Loneliness and social isolation linked to different blood proteins)। এগুলি আমাদের শরীরে ইমিউনিটি, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রদাহকেও প্রভাবিত করে।

গবেষকদের মতে, সামাজিক দূরত্বে থাকা ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ ও কার্যকলাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতেই পছন্দ করে। তবে একাকীত্ব ও সামাজিক দূরত্ব একেবারেই ভিন্ন। তবুও মানব আচরণের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় ১৭৫টি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে জড়িত প্রোটিন, সঙ্গে ২৬টি একাকীত্বের সঙ্গে জড়িত প্রোটিনকে সনাক্ত করেছে। এগুলি হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও প্রদাহের মত গুরুতর রোগের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে একটি মূল প্রোটিন এডিএম (ADM), যা আমাদের স্ট্রেস ও অক্সিটোসিনের মত সামাজিক হরমোনকে নিয়ন্ত্রিত করে। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে, এএসজিআর১ (ASGR1)। এটি উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ, স্ট্রোক, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াবে এমন প্রোটিনও। তাই সুস্থ থাকতে নিজেকে উপর নজর রাখা উচিত।

মূলত, শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকুন। অর্থাৎ সামাজিক যেকোনও কাজ বা ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে য়ুক্ত থাকাতে হবে। আপনার এই অভ্যাস একাকীত্বকের ঝুঁকি কমাবে, সঙ্গে স্বাস্থ্যের উন্নতি করতেও সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্ব সমস্ত বয়স এবং লিঙ্গকে প্রভাবিত করে। যা গুরুতর মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে পরিচালিত করে। তাই সুস্থ থাকতে সামাজিক দূরত্ব মেটান। পরিবার ও আশেপাশের মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন।

Story first published: Tuesday, January 7, 2025, 14:26 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion