আফ্রিকায় ক্রমাগত কেস বাড়ছে এমপক্সের, কী এই ভাইরাস? জানুন এর লক্ষণগুলি

By Bhagysree Sarkar

ইতিমধ্যেই আফ্রিকা জুড়ে এমপক্স ভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, এমপক্স ভাইরাস উগান্ডা এবং কেনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখান থেকে মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই আতঙ্ক। এরপরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সন্দেহভাজন এমপক্স ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের চারপাশে ক্রমবর্ধমান দুর্দশা প্রকাশ করেছে।

ডব্লিউএইচও একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক, টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা প্রয়োজন কিনা তা সিদ্ধান্ত নিতে তিনি একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রবিধান জরুরী কমিটি গঠনের কথা বিবেচনা করছেন।

ছবি সৌজন্য - পিটিআই

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক একই পোস্টে বলেছেন, আফ্রিকান ইউনিয়নের একটি স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এমপক্স ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এমপক্স ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সমস্ত ব্যবস্থা আনতে তহবিলের অভাবকেও তুলে ধরেন।

তবে সংক্রমিত সকলেই ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী পুরুষ। তারা প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হওয়া অন্য কোনও দেশে যাননি। ফলে এই রোগটি স্থানীয়ভাবে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কি এই এমপক্স ভাইরাস?

মাঙ্কিপক্স ভাইরাসজনিত অসুখ। স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণির একটি ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী। ২০২২ সালে মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম হয় 'এমপক্স'। মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত চাপের ফলেই এই নাম পরিবর্তন হয়। যদিও এই ভাইরাসটির জন্য এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি।

তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছিল, স্মলপক্স বা গুটিবসন্তের জন্য ব্যবহৃত টিকা মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ করতে সক্ষম নয়। জানা যায়, ১৯৫৮ সালে মাঙ্কিপক্সের ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। সেইসময় একটি ল্যাবরেটরিতে রাখা বানরের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। যারজন্যই এর মাঙ্কিপক্স নামকরণ হয়।

এরপর ১৯৭০ সালে আফ্রিকার একটি দেশে মানবদেহে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে বিক্ষিপ্তভাবে এর সংক্রমণ ঘটতে দেখা যায়। তবে বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বানর নয় বরং ইঁদুরও এই ভাইরাসের বাহক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই রোগটির বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপাশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি ওঠে। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে। এর ফলে মস্তিষ্ক, হৃদপিন্ড এবং মলদ্বার প্রদাহ হতে পারে। এমপক্স ভাইরাসের কারণে আরও জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

Story first published: Wednesday, August 7, 2024, 14:04 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion