Digital dementia: আপনি কি প্রায়ই ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি কমছে নাকি ডিজিটাল ডিমেনশিয়ার শিকার

By Bhagysree Sarkar

বর্তমান যুগে স্ক্রিন এবং প্রযুক্তি (Screens and technology) দ্বারা ভীষণ প্রভাবিত। এসব ছাড়া জীবন প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। এই যগে স্ক্রিন টাইম (screen time) একটি বিশাল নেশায় পরিণত হয়েছে। যা কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক কঠোর নিয়ম ও কৌশল অবলম্বন করতে হয়। বর্ধিত সচেতনতার কারণে, প্রায় সবাই জানে যে স্ক্রিন টাইম প্রতিটি অর্থেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এটি শুধু চোখের নয়, মস্তিষ্কেও খারাপ প্রভাব ফেলে। যার ফলে ডিজিটাল ডিমেনশিয়ার (Digital dementia) মতো রোগের উদ্ভব হচ্ছে। তবে কমবয়সীদের গ্রাস করছে ডিজিটাল ডিমেনশিয়া।

চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি মস্তিষ্কের ব্যাধি (brain disorders), যার অনেক ধরনের উপসর্গ থাকে। যেমন- স্মৃতিশক্তি হ্রাস (memory loss), সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন (Personality changes) এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে অসুবিধা। এসব সমস্যা দেখা দিলে বুঝবেন ডিমেনশিয়ার শিকার (Dementia sufferers) আপনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের (Excessive smartphone use) কারণে আমাদের মস্তিষ্ক কম সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কে এক ধরনের সেন্সরি মিস ম্যাচ হয়, যা প্রযুক্তি, ফোন এবং দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে ঘটে।

এই সমস্যার ফলে ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি (Symptoms of Dementia) অনুভূত হতে থাকে, যাকে ডিজিটাল ডিমেনশিয়া বলা হয়। দিনে ৪ ঘন্টার বেশি ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার করা ডিজিটাল ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও এতে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতা পারে। তাই সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ডিজিটাল ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি-

Digital dementia

ছবি সৌজন্য- pexels

. স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস

. শব্দ বা জিনিস মনে রাখতে অসুবিধা অনুভব করা

. মাল্টিটাস্কিংয়ে সমস্যা

. সহজে জিনিস ভুলে যাওয়া বা হারানো

. ছোট কাজের পাশাপাশি বড় কাজের প্রতি মনোযোগের অভাব

. শিশুদের মধ্যে ভাষার ধীরগতি, কম সক্রিয় মস্তিষ্ক এবং অলস বসে থাকা মানসিক ও শারীরিক বিকাশেও বাধা দেয়

. প্রতিটি ছোট কাজের জন্য গুগল ব্যবহার করার কারণে আপনার ফোন নম্বরের মতো মৌলিক জিনিসগুলিও মনে রাখতে অক্ষমতা

তবে ডিজিটাল ডিমেনশিয়া থেকে নিজেকে ও আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে, কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন-

. মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এমন গেম খেলুন, যা মস্তিষ্ককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে। যেমন- দাবা।

. রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমন কিছু সময় নির্দিষ্ট করে রাখুন যে সময়ে আপনি ফোনে হাত দেবেন না।

. ফোনে একটি সময়সীমা সেট রাখুন, এরপরে আপনার ফোন নিজেই আপনাকে অ্যাক্সেস ব্যবহারের সংকেত দিতে শুরু করবে। আজকাল এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে।

. ফোন ঘাটার বদলে পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে মনোনিবেশ করুন। সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে একটি সিনেমার পরিকল্পনা করুন। ঘুম হারানো এবং স্ক্রিন দেখা যে কোনও ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যের সাথে একটি আপস।

. গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, মুদির তালিকা এবং দৈনিক জার্নালিংয়ের জন্য প্রতিদিন কলম এবং কাগজ ব্যবহার করুন। সবকিছুর জন্য আপনার ফোনের উপর নির্ভর করা বন্ধ করুন। যদি সম্ভব হয়, ফোন নম্বরটি মনে রাখবেন, যাতে এটি জরুরি পরিস্থিতিতে আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।

Story first published: Wednesday, October 16, 2024, 15:22 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion