রাজ্যে বাড়ছে অ্যাডিনো ভাইরাস সংক্রমণ! কী ভাবে বুঝবেন আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত কি না?

করোনার ভয় কাটিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে না ফিরতেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে অ্যাডিনো ভাইরাস। এই ভাইরাসে বেশি কাবু হচ্ছে শিশুরা। পশ্চিমবঙ্গে মারাত্মকভাবে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসের প্রকোপ এতটাই যে শিশু রোগীদের বেডের আকাল দেখা দিয়েছে কলকাতার হাসপাতালগুলিতে।

What is adenovirus

কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলার হাসপাতালগুলিতেও বাড়ছে অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি হচ্ছে অধিকাংশ শিশু। অনেককেই ভেন্টিলেশনে দিতে হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

অ্যাডিনো ভাইরাস কী?

অ্যাডিনো ভাইরাস কী?

বায়ুবাহিত অ্যাডিনো ভাইরাস সাধারণত চোখ, শ্বাসযন্ত্র, মূত্রনালি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার ২ দিন থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। এই ভাইরাসের সবচেয়ে প্রচলিত লক্ষণগুলি হল জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, কনজাংটিভাইটিস, ইত্যাদি।

সঠিক সময়ে এই ভাইরাসের চিকিৎসা না হলে রোগী মেনিনজাইটিস এবং এনসেফালাইটিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হতে পারে। হাসপাতালে শিশু রোগীদের সংখ্যা বাড়লেও অ্যাডিনো ভাইরাসের প্রকোপে যে কোনও বয়সের মানুষই আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অ্যাডিনো ভাইরাসে শিশুদের ফুসফুস ও শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কী ভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?

কী ভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?

অ্যাডিনো ভাইরাসের চরিত্রটা অনেকটা কোভিডের মতোই। এই সংক্রামক ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকেই ছড়ায়। রোগীর ছোঁয়া কোনও জিনিসের সংস্পর্শে এলেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাঁচি কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসও সরাসরি আক্রমণ করেতে পারে ফুসফুসকে।

অ্যাডিনো ভাইরাসের চিকিৎসা

অ্যাডিনো ভাইরাসের চিকিৎসা

অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণত উচ্চ মাত্রার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। ব্যথানাশক বা জ্বর কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা পদ্ধতি নেই।

অ্যাডিনো ভাইরাস থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

অ্যাডিনো ভাইরাস থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

১) ভিড় জায়গা থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন শিশুকে। অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যাবে না।

২) মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। হাঁচি কাশির সময় মুখ ঢেকে নিতে হবে।

৩) খাওয়ার আগে এবং পরে বাচ্চাকে ভালো করে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করান। চোখে মুখে হাত দেওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

৪) মল-মূত্রত্যাগ করার পরে ভালো করে পরিষ্কার করছে কি না, তা খেয়াল রাখুন।

৫) জ্বর, সর্দি, কাশি হলে অন্যদের থেকে বাচ্চাকে আলাদা রাখার চেষ্টা করুন।

৬) আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারের জিনিসপত্র একেবারে আলাদা রাখুন। এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে, তাই যত দিন না পর্যন্ত সুস্থ হচ্ছে, তত দিন বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।

Story first published: Thursday, February 23, 2023, 19:57 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion