গরমে নিয়মিত খাচ্ছেন শসা? এর মধ্যে রয়েছে অজানা উপকার, দেখুন

By Bhagysree Sarkar

সূর্যের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। একমাত্র কাজ ছাড়া বাইরে বের হতে চাইছেন না অনেকেই। রীতিমত ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। বাইরে বের হলেই আগুন জ্বলছে মনে হচ্ছে। এই সময় কোনও খাবার খেতেই ইচ্ছা করছে না। স্বস্তি পাওয়া দায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তীব্র গরমে খাবার খেতে হবে খুবই বুঝে শুনে। গরমে তৈলাক্ত বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। এর বদলে খেতে হবে এমন খাবার, যা ঠাণ্ডা রাখবে আপনাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেসব খাবার জলের ঘাটতি মেটায় এবং শরীর শীতল রাখে, সেগুলো খেতে হবে। এ ধরনের খাবারের তালিকায় শুরুতেই থাকবে শসার নাম। শসায় থাকে পর্যাপ্ত জল, ফাইবার, কার্ব, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন সি, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ফোলেট, লিউটিন, জিয়াজ্যানথিন, ভিটামিন কে, বিটা ক্যারোটিন এবং প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি খেলে এনার্জির ঘাটতি পূরণ হয় সেইসঙ্গে পাওয়া যায় শীতল অনুভূতি। চলুন এখ নজরে দেখে নেওয়া যাক এই গরমে শসা খাওয়ার উপকারিতা-

cucumber

১. গরমে শরীরে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে হজমের সমস্যা অন্যতম। তীব্র গরমে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। এসব সমস্যার সহজ সমাধান শসা। কারণ, এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার। যা আপনার পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার কাজে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত শসা খেলে পেটের সমস্যা দূরে থাকে।

২. তীব্র গরমে আমাদের শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেইসঙ্গে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্যও এলোমেলো হতে পারে। ফলে শরীরে নানা সমস্যার দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় উপকারী একটি খাবার হতে পারে শসা। শসা খেলে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ হয়। সেইসঙ্গে রক্ষা পাওয়া যায় জলশূন্যতা থেকেও। চাইলে শসা, লেবু, জল ও পুদিনা পাতা দিয়ে রিফ্রেশিং ড্রিংক তৈরি করেও খেতে পারেন। এতে মুখে স্বাদও আসবে, সঠিক পুষ্টিও পাবেন।

৩. বর্তমানে হারে সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। একটু হাঁটলেই পায়ে ব্যাথা অথবা হঠাৎ বসা থেকে উঠলেই পায়ে অস্বাভাবিক যন্ত্রণা। এছাড়াও, বাতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। তবে নারীদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সকালে হাড় মজবুত রাখতে নিয়মিত খেতে হবে শসা। এতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে। যা আমাদের শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। কেবল বয়স্কদের জন্যই নয়, সবার জন্যই শসা একটি উপকারী খাবার।

৪.রূপচর্চার সময় অনেকেই দেখা যায় শসা না খেয়ে গোল করে কেটে দুই চোখের ওপর দিয়ে রাখছেন। কারণ, তারা জানেন, এটা করলে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে দেবে। আর চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে এটি। চোখের প্রদাহপ্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।

৫. শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে, যা শরীরে জমা ইউরিক অ্যাসিড কমায়। এতে বাতব্যথা থেকে অনেকটাই রেহাই মেলে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে আসে।

৬. শসা ওজন কমাতেও সক্ষম। কারণ, ফাইবারযুক্ত খাবার ওজন কমায়। ডায়াবেটিস রোগীরাও শসা খেতে পারেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন শসা খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। শসাতেও প্রোটিন পাওয়া যায়, যা ক্যানসার বা টিউমারের বৃদ্ধি রোধে সহায়ক।

Story first published: Tuesday, April 16, 2024, 20:04 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion