হেনার ব্যবহার আপনার চুলে আনবে জেল্লা, ঢাকবে ধূসরতা

By Autri

কমার্শিয়াল হেয়ার ডাই দিয়ে ধূসর চুল ঢেকে রাখচ্ছেন? অজান্তেই ঢেকে আনচ্ছেন বড় বিপদ। এই সমস্ত হেয়ার ডাইতে থাকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল। যা আপনার চুল সহ মাথার ত্বককেও ক্ষতি করতে পারে। আপনি কি ধূসর চুলের জন্য হেনার মতো প্রাকৃতিক হেয়ার ডাই ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করেছেন?

হেনা, যা সাধারণত মেহেন্দি নামে পরিচিত। এটি একটি মায়াবী লাল-কমলা ছায়ায় চুল রঙ করে। এটি ঐতিহ্যগতভাবে চুল ঘন রাখতে চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয় এবং এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাথার ত্বক এবং চুল সুরক্ষায় সাহায্য করে। পাশাপাশি, হেনা চুলের শক্তি বাড়ায়, চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক। হেনা সাধারণত ধূসর চুল ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং রাসায়নিক চুলের রঞ্জকগুলির একটি জনপ্রিয় বিকল্প।

Henna

হেনা চুলের জন্য ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় হেয়ার মাস্কগুলির মধ্যে একটি। এবার দেখে নিন এই হেনার উপকারিতা-

হেনা তার ঔষধি মানের জন্য বিখ্যাত যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিক্যান্সার বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। এটি ত্বকের অ্যান্ড্রোজেন সামগ্রী কমাতে, চুলের বৃদ্ধি ও মান উন্নত করতে সাহায্য করে। হেনা পাতার রসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যে আছে। এই সুবিধাগুলি ছাড়াও, মেহেদির প্রধান ব্যবহার আমরা ধূসর চুলকে কালো করতে করে থাকি। কিন্তু হেনা কি আদতে ধূসর চুল ঢেকে দিতে সক্ষম?

হ্যাঁ. হেনা একটি রাসায়নিক মুক্ত চুলের রঞ্জক হিসাবে কাজ করে। যা ধূসর চুলকে ঢাকতে সাহায্য করতে পারে। এটির ব্যবহারে চুলে লাল-কমলা আভা লক্ষ্য করা যায়। তবে আপনার প্রাকৃতিক চুলের রঙের উপর নির্ভর করে ফলাফলগুলি ভিন্ন হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য ভেষজ উপাদান যেমন রিঠা, শিকাকাই, এবং আমলা, কফি যোগ করলে চুলের পুষ্টি ভালো হয়। পাশাপাশি চুল ভাঙা প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

  • কীভাবে হেনা ব্যবহার করবেন-

একটি পাত্রে ১-২ টেবিল চামচ চা পাতা পরিমাণমত জলে ফুটিয়ে নিন। এরপর ওই চায়ের জল ঠান্ডা হয়ে আসলে তাতে পরিমাণ মত হেনা পাউডার মিশিয়ে নিন। সঙ্গেই আধ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি প্রায় ৪ ঘণ্টা বা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। এরমধ্যে আপনি চুলের জন্য উপকারী অন্যান্য উপাদানও যোগ করতে পারেন। এবার এই মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বক সহ চুলের ডগ পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। মাস্কটি অন্তত পক্ষে ৩০ থেকে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। পরে তা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। ভালো করে ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। তবে এখনই শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না, রং স্থির হতে দিন। পরের দিন আপনার চুল শ্যাম্পু করতে পারেন। এটি একটি স্থায়ী চুলের রং নয়, তাই আপনি মাসে একবার বা দুবার হেনা লাগাতে পারেন। মনে রাখবেন, হেনা ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একটি পুরাতন জামা পরে নেবেন।

মেহেদি ত্বকের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে বেশকিছু ক্ষেত্রে হেনা অ্যালার্জি কারণ হতে পারে। যেমন, চুলকানি, শুষ্কতা, ঘা এবং চোখ লালভাব হতে পারে। তাই আপনাকে কয়েকটি সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে।

১. অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করতে একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন।

২. আপনার মাথার ত্বকে অবস্থিত ক্ষত বা ফোস্কা থাকলে হেনা লাগাবেন না।

৩. সর্দি বা জ্বর হলে হেনা লাগাবেন না। এটির একটি শীতল প্রভাব রয়েছে, যা আপনার ঠাণ্ডাভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৪. আপনার চুল যেন জটমুক্ত হয় তা নিশ্চিত করুন। হেনা পেস্ট জট সৃষ্টি করতে পারে এবং ধুয়ে ফেলা কঠিন হতে পারে।

৫. পেস্ট মেশানোর জন্য সর্বদা একটি কাচের বাটি ব্যবহার করুন। কারণ ধাতব বাটি উপাদানগুলির সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

৬. দাগ এড়াতে হেনা লাগানোর আগে সর্বদা প্লাস্টিকের গ্লাভস পরুন।

৭. তৈলাক্ত চুলে হেনা লাগাবেন না, কারণ তেল রঙ শোষণে বাধা দিতে পারে।

৮. হেনা লাগানোর পর চোখে জ্বালাপোড়া অনুভব করলে শসার টুকরো বা কুলিং আই প্যাড লাগান।

Story first published: Saturday, March 30, 2024, 10:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion