সুন্দর ত্বক এবং স্বাস্থ্যজ্জল চুলের রহস্য লুকিয়ে আমলকীতে!

Posted By: Staff
Subscribe to Boldsky

চুল এবং ত্বকের যত্নে আমলকীর ব্যবহার সেই প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। আমলকীর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদান চুল এবং ত্বকের যত্নে এক যুগান্তকারী প্রাকৃতিক উপহার। তাই তো মহিলাদের সৌন্দর্য্যবর্ধক হিসাবে আমলকী এবং আমলকী মিশ্রিত জল, যুগযুগান্ত ধরে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। এত উপকারিতার পরেও যদি আপনি আমলকীর ব্যবহার শুরু না করে থাকেন, তবে আমলকীর ম্যাজিক নিয়ে বোল্ডস্কাই-এর এই লেখা শুধুমাত্র আপনার জন্যই লেখা হচ্ছে।

ঠিক কি কি কারণে আমলকী আমাদের চুল এবং ত্বকের জন্য এত প্রয়োজনীয়, তা তো আগেই বলা হয়েছে, এবার জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে আমলকীর জল তৈরি করা যায়।

আমলকী জল তৈরি করার পদ্ধতিঃ
১. ৩-৪ টি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন আমলকীটা।
২. ব্লেন্ডারে অল্প একটু জল এবং আমলকীর টুকরোগুলো বেটে নিতে হবে। ব্যস, তৈরি আপনার আমলকী জল। এবার আপনার চুল এবং ত্বককে এক নতুন পরিচয় দিন আমলকীর ছোঁয়ায়। তবে, ব্যবহারের আগে এই জল আপনার ত্বকের জন্য নিরাপদ কিনা, সে সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে অল্প পরিমাণে আমলকী জল ত্বকে এবং চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখে দিন। যদি দেখেন কোনও সমস্যা হচ্ছে না, তাহলে সেটি পুরোমাত্রায় ব্যবহার করুন।

এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক আমলকীর জলের গুণাগুণ সম্পর্কে।

১. ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করেঃ

১. ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করেঃ

বাজারজাত হাজারো প্রসাধনী ব্যবহার করে ক্লান্ত? তবু মনের মতো ফর্সা, উজ্জ্বল ত্বক কিছুতেই পাচ্ছেন না? তাহলে আর টাকা নষ্ট না করে ব্যবহার করুন আমলকী মিশ্রিত জল। বহুসংখ্যক মহিলা তাদের ত্বক অনুযায়ী এই জল ব্যবহার করে থাকেন। ত্বকের জন্য যে যে উপাদনগুলি উপকারী, সেগুলির বেশিরভাগই রয়েছে আমলকীর মধ্যে। তাই তো এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ৩-৪ বার আমলকীর জল ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ত্বকের জেল্লা বাড়াবে ম্যাজিকের মতো।

২. বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করেঃ

২. বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করেঃ

মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখে ভাঁজ পড়তে শুরু করে। এর ফলে বয়সের ছাপ প্রভাব ফেলে আপনার মনের ওপরেও। তবে, চিন্তা করার আর দরকার নেই। হাতের সামনেই প্রকৃতির ম্যাজিক উপস্থিত রয়েছে তো। আমলকী জলের ব্যবহারে বিদায় জানান বয়সের চিহ্নকে। আমলকীতে প্রয়োজনীয় পৌষ্টিক পদার্থ থাকায়, তা ত্বককে টানটান করে তলতে সাহায্য করে এবং কোলোজেন প্রোটিন, যা আমাদের ত্বককে কোমল এবং টানটান দেখাতে সাহায্য করে সেটির উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিক বাবেই স্কিব উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

৩. প্রাকৃতিক জীবাণুনাশকঃ

৩. প্রাকৃতিক জীবাণুনাশকঃ

প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যে কোনও রকম সংক্রমণ ঠেকাতে আমলকীর জুড়ি ব্যবহার হয়ে আসছে। আমলকীর মধ্যে বহুল পরিমাণে রয়েছে সংক্রমণ রোধকারী উপাদান, যা ত্বককে নানারকমের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। সেই সঙ্গে ত্বকের চুলকানি, জ্বালা ইত্যাদি প্রশমন করে ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। আমলা জলে তুলো ভিজিয়ে ত্বকের সংক্রমিত স্থানে লাগালে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

৪. ‘হোয়াইট হেডস’ নির্মূল করতে সাহায্য করেঃ

৪. ‘হোয়াইট হেডস’ নির্মূল করতে সাহায্য করেঃ

অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের কারণে নানারকম জীবাণু আমাদের ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি করে। এরকমই একটি হল ‘হোয়াইট হেডস'। মূলত, জীবাণু ত্বকের অতিরিক্ত তেল এবং মৃত কোষগুলির সঙ্গে মিশে ত্বকের মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে ‘হোয়াইট হেডস'-এর জন্ম দেয়। আর এই সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করে আমলকী জল, যা জীবানুর দ্বারা বুজে যাওয়া ত্বকের ছিদ্রের মুখ খুলে দেয় এবং বিষাক্ত জীবাণুকে ত্বক থেকে দূর করতে সাহায্য করে। আমলা জল সপ্তাহে একদিন যে কোনওরকম প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগানো যেতে পারে।

৫. ত্বককে পুনর্জীবন দান করেঃ

৫. ত্বককে পুনর্জীবন দান করেঃ

প্রকৃতপক্ষে, আমাদের ত্বক নিজে থেকেই নানা রকম সমস্যা সমাধানে সমর্থ। যদিও, অতিবেগুনী রশ্মি, বাড়তে থাকা পরিবেশ দূষণ আমাদের ত্বকের এই কাজে বাঁধা দেয়। এর ফলে আমাদের ত্বক নানান সমস্যার শিকার হয় এবং ত্বকের জেল্লা ও স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখতে চাইলে প্রতি সপ্তাহের রুটিনে রাখতে হবে আমলকী জল।

৬. মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করেঃ

৬. মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করেঃ

বহু মহিলা ত্বকের যত্নে আমলকী ব্যবহার করে থাকেন। আমলকীর মধ্যে জীবাণুনাশক উপাদান থাকায় এটি ত্বকের মৃত কোষগুলিকে দূর করে এবং ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে যে কোনও প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আমলকী জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যেতে পারে। অথবা, সপ্তাহে একদিন আমলকী জল দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলেও একই উপকার পাওয়া যায়।

৭. স্কাল্পের চুলকানি দূর করেঃ

৭. স্কাল্পের চুলকানি দূর করেঃ

আমলকী জল চুল এবং মাথার ত্বকের যত্নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের চুল বেশ কিছু সমস্যা যেমন, খুশকি, চুলকানি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর ফলে, চুলের গোড়া সহ চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমলকী জল এক দারুণ ওষুধ। একটি ছোট আকারের তুলোর বল আমলকী জলে ডুবিয়ে চুলের গোড়ায় লাগাতে হবে। আধা ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

৮. চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করেঃ

৮. চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করেঃ

লম্বা কালো চুল কার না পছন্দ। সাবেকি হোক বা ট্রেন্ডি, যে কোনও লুকে খাপ খায় লম্বা চুল। আর তাই, বহু মহিলা চুলের যত্নে আমলকী ব্যবহার করে থাকেন। আমলকী জল চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চুলের আগা ফেটে যাওয়া থেকেও চুলকে রক্ষা করে। তাই চুলের যে কোনও সমস্যা দূর করতে আমলকী জল প্রতি সপ্তাহে ব্যবহার করা উচিত।

৯. চুলকে ঘন এবং মজবুত করতে সাহায্য করেঃ

৯. চুলকে ঘন এবং মজবুত করতে সাহায্য করেঃ

চুল অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যাওয়া মহিলাদের একটি অন্যতম সমস্যা। কারণ, চুল যত পাতলা হয়, ততই প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং আগা ফেটে যায়। সেক্ষেত্রে আমলকী জলের নিয়মিত ব্যবহার এবং এর মধ্যে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদান চুল ঝরে যাওয়া বন্ধ করে এবং চুল ঘন করতে সাহায্য করে।

English summary
Presence of high content of vitamin C and other beauty-boosting vitamins and nutrients makes amla water one of the most effective remedies for treating all kinds of skin and hair-related problems.
Please Wait while comments are loading...