ব্রণের কালো দাগ কিছুতেই যাচ্ছে না? ঘরোয়া উপায়ে দূর হবে সমস্যা!

সারা বছর ত্বকের যে সমস্যাটি বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সেটা হল ব্রণ। তৈলাক্ত ত্বক হলে এমনিই ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ ছাড়া দূষণ, পরিচর্যার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কারণেও ত্বকে ব্রণর সমস্যা বাড়ে।

মুখে ব্রণ হয়ে সেরেও যায়। কিন্তু যেটা থেকে যায় তা হল ব্রণের দাগ। মুখের দাগছোপ ঢাকতে অনেকেই চড়া মেকআপ করেন। প্রাইমার, ফাউন্ডেশন, কনসিলার, হাইলাইটার ব্যবহার করে ব্রণর কারণে হওয়া কালো দাগ ঢাকতে হয়। কিন্তু মুখ ধোওয়ার পর ফের সেই কালো দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নামীদামি ক্রিম, ফেসপ্যাক, সিরাম ব্যবহার করেও দাগছোপ হালকা হয় না।

Tips to Lighten Acne Scars Naturally

এত সব না করে ঘরোয়া উপায়েই ত্বকের যত্ন নিন। এতে মুখের দাগও কমবে, আর ত্বকও হবে উজ্জ্বল। দেখে নিন ব্রণ, পিম্পলের দাগছোপ হালকা করার কিছু ঘরোয়া উপায়।

নারকেল তেল
নারকেল তেল হাতের তালুতে ঘষে গরম করে নিন। এটি ব্রণের দাগের উপর লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এটি করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেল তেলে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। যা ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে।

তবে যাদের অয়েলি স্কিন তারা ত্বকে নারকেল তেল লাগাবেন না। কারণ নারকেল তেল ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে এবং ব্রণের সমস্যা বাড়ায়।

টি ট্রি অয়েল
টি ট্রি অয়েলে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য, যা ব্রণের দাগছোপ কমাতে কার্যকর। আমন্ড অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে দাগের জায়গায় লাগান। এক ঘণ্টা পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। দাগ হালকা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একবার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

কিন্তু টি ট্রি অয়েলের কারণে ত্বকে জ্বালা, যন্ত্রণা হতে পারে। তাই মুখে এই তেলের মিশ্রণ লাগানোর আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করিয়ে নিন।

অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরাও ব্রণের দাগ কমাতে দারুণ কার্যকর। অ্যালোভেরার পাতা থেকে ফ্রেশ জেল বের করে নিন। দাগছোপের জায়গায় জেল লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন।

পাতিলেবুর রস
লেবুর রসে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ব্রণের দাগ, দাগছোপ হালকা করতে কার্যকর। লেবুর রসে তুলো ডুবিয়ে দাগের ওপরে লাগান। ১০ মিনিট পর ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩-৪ বার লেবুর রস লাগাতে পারেন।

তবে সেনসিটিভ ত্বকে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন না। এতে লালচে ভাব, জ্বালা হতে পারে। তাছাড়া, লেবুর রস লাগানোর আগে প্যাচ টেস্টও করিয়ে নিতে পারেন।

হলুদ
ত্বকের পরিচর্যায় হলুদের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। হলুদ ব্যবহারে ব্রণ, সোরিয়াসিস এবং অ্যালোপেসিয়া-র মতো ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। এতে রয়েছে কারকিউমিন, যা ব্রণের দাগছোপ হালকা করতে সাহায্য করে। এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো লেবুর রসে মিশিয়ে দাগের ওপর লাগান। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

সেনসিটিভ ত্বকে এই মিশ্রণ লাগাবেন না, কারণ লালচে ভাব ও জ্বালা হতে পারে। এই মিশ্রণ লাগানোর আগে প্যাচ টেস্ট করিয়েও নিতে পারেন।

X
Desktop Bottom Promotion