আসন্ন পয়লা বৈশাখে ভাবচ্ছেন কী পরবেন? শাড়ির সাজে তাক লাগাতে পারেন আপনিও, দেখুন

By Bhagysree Sarkar

পয়লা বৈশাখ, বাংলা বছরের প্রথম দিন। বাঙালি সংস্কৃতিতে নতুন বাংলা বছরটি অনেক আশা, আকাঙ্ক্ষ পূরণ করবে, বিগত বছর থেকে নতুন বছরটি ভালো কাটবে, এরকম একটা স্বাভাবিক মানসিকতা কাজ করে। তাই নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ১লা বৈশাখের দিনটি উৎসবের মরসুমে পরিণত হয়। এইসময় ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি কামনায় সিদ্ধিদাতার গণেশের পূজার আয়োজন করেন।

পাশাপাশি দিনটিকে উৎসব মুখর করে তুলতে ভালো খাওয়া, দাওয়া, ভালো মানে মাছ, মাংস, মিষ্টি ইত্যাদির আয়োজন করে বাঙালিরা। শুধু তাই নয়, সাধ্যের মাঝেই নতুন কাপড় চোপড় কেনার, উপহার দেওয়ার মধ্যে দিয়েও এইদিনটি পালন করা হয়।বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হচ্ছে শহর। তবে কেনাকাটা করার সময় আপনি যদি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন যে আপনি কী পরবেন, তাহলে আজকের প্রতিবেদন আপনার জন্য। এই তালিকায় থাকা কাপড়গুলি ঐতিহ্যময়ের সঙ্গেই আকর্ষণীয়ও বটে। এক কথায় বলা চলে, আধুনিকতাকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যের বাহক এই কালেকশনগুলি। দেখুন-

কথায় আছে শাড়িতেই নারী। অর্থাৎ শাড়িতেই সবথেকে সুন্দর লাগে নারীকে। শাড়ির সঙ্গে বাঙালির আবেগ একে অপরের সঙ্গে বহু যুগ আগে থেকেই জড়িত। বিয়ে বাড়ি হোক বা কোন অনুষ্ঠান নারী সর্বদা শাড়িকেই বেছে নেয়। তাই বাংলার নবর্বষের দিন আপনার জন্য শাড়ির থেকে বেশি ভাল পোষাক হতে পারে না। তাই এই প্রতিবেদনে আপনার জন্য ৩ ধরণের শাড়ির পরামর্শ দেওয়া হল-

প্রিটি প্রিন্ট শাড়ি-
পয়লা বৈশাখের জন্য আপনি বেছে নিতে পারেন যেকোনও প্রিন্ট শাড়ি। বিশেষত, কটনের হ্যান্ডলুম শাড়ি আপনার ত্বককে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এই শাড়িগুলিতে সেকেলের সঙ্গে একেলের ছোঁয়ার তাল মিলিয়ে সুন্দর প্রিন্ট করা থাকে। এতে থাকতে পারে সুন্দর গ্রীষ্মকালীন সূর্যমুখী সহ নানান দেবদেবী ও বিভিন্ন কারুকার্য। এই শাড়ির নকশাও হয় দেখার মতো। বিভিন্ন দাম এবং নানা ধরনের হ্যান্ডলুম শাড়ি বাজারে পাওয়া যায়। খাঁটি হ্যান্ডলুম শাড়ির দাম একটু বেশিই হয়। কিন্তু ফ্যান্সি শাড়িগুলোর দাম খুব বেশি হয় না। হ্যান্ডলুম শাড়ির মতো ইউনিক ডিজাইনও পাওয়া যায়। তাই আপনার সংগ্রহে এমন শাড়ি থাকা মাস্ট।

ফ্লোরাল ডিজাইন শাড়ি-
শাড়ির ফ্লোরাল ডিজাইনের শাড়ি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন জামদানি শাড়ি, ফুলকারি শাড়ি, তেরচা কাজের শাড়ি, পাটোলা ইত্যাদি। এই শাড়িতে ফুলের প্রিন্ট করা হয়। বাংলায় মুঘল আমলে বিভিন্ন মসলিন থেকে ফুলের নকশার শাড়ি হাতে বোনা হত। ঐতিহ্যগতভাবে, ভারতীয় ফুলের শাড়িতে শুধুমাত্র শাড়ির পল্লুতে ফুলের শিল্প দেওয়া হত। কারণ এটিই শাড়ির একমাত্র অংশটি জনপ্রিয়ভাবে দেখা যায়। তবে যুগের পরিবর্তন হয়েছে, মুঘল আমল থেকে আজ ফ্য়াশানেবল শাড়িতে নাম লিখিয়েছে ফ্লোরাল ডিজাইনের শাড়িগুলি। যেকোনও উৎসবে তাল মিলিয়ে আপনি করতে পারবেন এই শাড়ি।

এমব্রয়ডারি ডিজাইন শাড়ি-
এমব্রয়ডারি ডিজাইনের শাড়ি মূলত দুইভাবে তৈরি হয়ে থাকে। প্রথম, যা একেবারেই তৈরি হয় দক্ষ কারিগরদের নিয়ে। দ্বিতীয়ত, যা উন্নতমানের মেশিনের দ্বারা খুবই অল্প সময়ে হয়ে থাকে। ভারতে এই ধরণের শাড়ির ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। দক্ষ কারিগরেরা প্রতিটি শাড়ি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং বিশদে মনোযোগ দিয়ে তৈরি করেন। যার ফলে একটি সত্যিকারের সূক্ষ্ম পোশাক যা শিল্পের কাজ। হ্যান্ড এমব্রয়ডারি শাড়িগুলিও মেশিনে তৈরি শাড়িগুলির তুলনায় উচ্চ মানের হয়। এগুলি হস্তশিল্পের কারণে, সূচিকর্মের কাজটি আরও জটিল এবং বিশদ, যার ফলে একটি আরও বিলাসবহুল হয়ে ওঠে। তাই এই পয়লা বৈশাখে আপনি বেছে নিতে পারেন এমব্রয়ডারি ডিজাইন শাড়ি। যা আপনাকে দেবে এক অতুলনীয় লুক।

Story first published: Monday, April 8, 2024, 13:45 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion