চুল রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? স্বাভাবিক জেল্লা হারাচ্ছে? এই নিয়ম মেনে চললে উপকার মিলবে সহজেই!

চুল আমাদের, বিশেষ করে নারীর সৌন্দর্যের চাবিকাঠি। চেহারায় এক আলাদাই সৌন্দর্য যোগ করে আমাদের কেশ। চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তিত্বও তৈরি করে এটি। কিন্তু ঘরে-বাইরে দু'দিক সামলে চুলের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই আমরা অনেকেই। যার ফল হল রুক্ষ-শুষ্ক চুল, চুল পড়ে যাওয়া।

Natural Ways To Moisturize Your Hair

বিশেষত শীতকালে আবহাওয়ার কারণে আমাদের চুল অত্যাধিক রুক্ষ হয়ে পড়ে। তাই এই সময় চুলের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া দরকার। একটু সময় বের করে আজ থেকেই চুলের যত্ন নিন।

চুল কেনো ময়শ্চারাইজ করবেন

চুল কেনো ময়শ্চারাইজ করবেন

ঋতু অনুযায়ী আপনার চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার মাত্রা পরিবর্তিত হয়, তার জন্য নিয়মিত চুলকে ময়েশ্চারাইজ করা প্রয়োজন।

শীতকালে তাপমাত্ৰা কমার সঙ্গে সঙ্গে আপনার চুল শুকনো হয়ে যায়। ঠান্ডা বাতাসের পাশাপাশি ঘরে হিটার চালালে তা শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্থ চুলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া যেসব কারণে চুল শুষ্ক-রুক্ষ হতে পারে

ক) স্ক্যাল্প যথেষ্ট পরিমাণ তেল উৎপাদন করতে পারে না

খ) হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন চুলের ক্ষতি করে

গ) হেয়ার কালার ও অন্যান্য কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট

ঘ) চুলে বেশি শ্যাম্পু করা

ঙ) শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করা

চ) চুল বেশি ধোওয়া

ছ) পরিবর্তিত আবহাওয়া

জ) খারাপ কোয়ালিটির ব্রাশ, চিরুনি ব্যবহার

এইসব কারণে আপনার চুল সতেজতা হারাতে পারে, জেল্লা হারিয়ে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে চুল। তাই চুলের আর্দ্রতা ফিরে পেতে চুলকে ময়েশ্চারাইজ করা দরকার। জেনে নিন কোন জিনিসগুলো চুল ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে।

১) নারকেল তেল

১) নারকেল তেল

নারকেল তেলে থাকা ময়েশ্চারাইজিং উপাদান চুলের প্রোটিন হারাতে দেয় না। এর ফলে চুল নরম ও কোমল থাকে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

নারকেল তেল নিয়ে চুল এবং স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করুন। কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করার পর এক ঘণ্টার মতো রেখে দিন। কম খার যুক্ত কোনও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন। তারপর কন্ডিশনার দিন। সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।

২) কলা এবং অলিভ অয়েল

২) কলা এবং অলিভ অয়েল

কলা এবং অলিভ অয়েলে থাকে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান, যা চুলকে হাইড্রেড রাখতে সাহায্য করে। চুল সফ্ট করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

১ টি পাকা কলা

১-২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল

তেল ও কলা ব্লেন্ড করে নিন। পেস্টটা শুকনো চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগান। ১৫ মিনিট রাখতে হবে। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। সপ্তাহে ১ বার এই প্যাক লাগাতে পারেন।

৩) কুমড়ো বীজের তেল ও মধু

৩) কুমড়ো বীজের তেল ও মধু

মধু খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার, হেয়ার কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এটি। কুমড়ো বীজের তেল চুল পড়া কমায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

১ টেবিল চামচ কুমড়ো বীজের তেল

২ টেবিল চামচ মধু

২ টেবিল চামচ নারকেল তেল

সব জিনিস মিশিয়ে নিন ভালো করে। ভেজা চুলে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। তারপর হালকা কোনও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন। অবশ্যই কন্ডিশনার লাগান। সপ্তাহে ১-২ বার এটি লাগালে উপকার পাবেন।

৪) শিয়া বাটার

৪) শিয়া বাটার

শিয়া বাটার চুলের জন্য দারুন উপকারি। শুষ্ক ও ড্যামেজ চুল ভালো করতে সাহায্য করে এটি।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

১-২ টেবিল চামচ শিয়া বাটার গরম করে স্ক্যাল্প ও চুলে লাগান ভালো করে। আলতো করে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর হালকা কোনও ক্লিনজার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর লাগান কন্ডিশনার। সপ্তাহে ১-২ বার এটি করতে পারেন।

৫) অ্যালোভেরা ও ল্যাভেন্ডার অয়েল

৫) অ্যালোভেরা ও ল্যাভেন্ডার অয়েল

অ্যালোভেরায় থাকা ফটোপ্রোটেক্টিভ এফেক্ট চুলের ক্ষতি রোধ করে। ল্যাভেন্ডার তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

১/৪ কাপ অ্যালোভেরা জেল, ১ কাপ জল, ২-৩ ড্রপ ল্যাভেন্ডার অয়েল

এক কাপ জলে অ্যালোভেরা জেল প্রথমে ব্লেন্ড করে নিন। তাতে মেশান ল্যাভেন্ডার অয়েল। মিশ্রণটি একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে নিন। প্রয়োজনমতো চুলে এবং স্ক্যাল্পে এটি স্প্রে করুন।

এই টিপসগুলি চুলের ক্ষতি রোধ করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে দেখবেন আপনার শুষ্ক-রুক্ষ চুল নরম হয়ে গেছে।

X
Desktop Bottom Promotion