শীতে মুখের চামড়া শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে? সৌন্দর্য ফেরাতে ঘরেই তৈরি করতে পারেন এই ফেস মাস্কগুলি

এখন চলছে ভরপুর শীতের মরসুম। আর, শীত মানেই রুক্ষ, শুষ্ক ত্বক এবং চুলে খুশকির সমস্যা। তাই, সারাক্ষণই রুপচর্চা লেগেই থাকে। আমরা প্রত্যেকেই অনুভব করতে পারি যে, আমাদের মুখ এবং গালের চারপাশে টান ধরছে, হাত ও পায়ের চামড়ায় টান পড়ছে। এর মানে ত্বক শুষ্ক হয়ে গেছে এবং অত্যন্ত যত্নের প্রয়োজন।

শীতের শুষ্ক ত্বকের সাথে লড়াই করতে আমরা নামী-দামী পণ্যগুলির উপর নির্ভর করি। কিন্তু, এই পণ্যগুলি প্রায়ই আপনাকে পছন্দসই ফলাফল দেয় না। তাই, এর কিছু বিকল্প সমাধান সন্ধান করার সময় হয়েছে।

homemade face masks for dry skin

শীতের শুষ্কতা মোকাবিলা এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় যত্ন এবং মনোযোগ দেওয়ার জন্য ঘরোয়া প্রতিকারগুলি সবচেয়ে সেরা। তাই, আজ আমরা আপনাকে ঘরে তৈরি কিছু শীতের ফেস মাস্কের কথা বলব যা, আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে।

শীতে শুষ্ক ত্বকের জন্য দেখে নিন কিছু ফেস মাস্ক -

মধু এবং দুধ

মধু এবং দুধ

ইমোলিয়েন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত মধু, ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সেরা উপাদানগুলির মধ্যে একটি। দুধে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে যা, ত্বকের মৃত কোষ এবং অমেধ্যগুলি মুছে ফেলতে ত্বককে এক্সফোলিট করে।

উপাদান

ক) ২ টেবিল চামচ মধু

খ) ৫ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি বাটিতে মধু নিন।

খ) এতে দুধ যোগ মেশান।

গ) এরপর, আপনার মুখে মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আপনার মুখটি ম্যাসাজ করুন।

ঘ) ২০ মিনিট রেখে দিন।

ঙ) পরে এটি ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাভোকাডো, ডিমের কুসুম এবং মধু

অ্যাভোকাডো, ডিমের কুসুম এবং মধু

আয়রন, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ, অ্যাভোকাডো ত্বকের গঠন উন্নত করে এবং আর্দ্র করে। প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিমের কুসুম ত্বকের ক্ষতি মেরামত করে এবং পুষ্টি প্রদান করে। মধু ত্বককে আর্দ্র করে।

উপাদান

ক) ২ টেবিল চামচ অ্যাভোকাডো শাঁস

খ) ২ টেবিল চামচ মধু

গ) ১ টেবিল চামচ ডিমের কুসুম

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি বাটিতে, অ্যাভোকাডোর শাঁস নিন।

খ) এতে মধু এবং ডিমের কুসুম যোগ করুন এবং পেস্ট বানান।

গ) পেস্টটি আপনার মুখে এবং ঘাড়ে লাগান।

ঘ) ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।

ঙ) পরে এটি ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

কলা, অ্যাভোকাডো এবং পেঁপে

কলা, অ্যাভোকাডো এবং পেঁপে

কলাতে পটাসিয়াম, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং প্রাকৃতিক তেল থাকে যা, ত্বক ময়শ্চারাইজ করে এবং শীতের শুষ্কতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পেঁপে, ত্বকের সুরক্ষামূলক অক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ যা, ত্বককে পুষ্ট করে ও হাইড্রেট করে।

উপাদান

ক) ১টি কলা

খ) ১টি পাকা অ্যাভোকাডো

গ) ২-৩ টুকরো পেঁপে

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) কলা, অ্যাভোকাডো এবং পেঁপে একটি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন।

খ) পেস্টটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান।

গ) এটি ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

ঘ) পরে হালকা গরম জল ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।

ওটমিল, দই

ওটমিল, দই

ওটমিল মৃত ত্বকের কোষ, ময়লা এবং অমেধ্য থেকে মুক্তি দিতে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে এবং ত্বকের উপরের স্তরটিকে শুষ্কতা কমাতে সতেজ করে তোলে। দই, ত্বকের টেক্সচার এবং হাইড্রেশনকে উন্নত করার জন্য ভাল এক্সফোলিয়েন্ট।

উপাদান

ক) ২ টেবিল চামচ গ্রাউন্ডেড ওটমিল

খ) ১ টেবিল চামচ দই

গ) ১ টেবিল চামচ মধু

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি বাটিতে গ্রাউন্ডেড ওটমিল নিন।

খ) এতে দই এবং মধু যোগ করুন এবং এটি ভালভাবে মিশ্রিত করুন।

গ) পেস্টটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান।

ঘ) ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন, যতক্ষণ না শুকোচ্ছে।

ঙ) পরে এটি ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

শসা

শসা

শসাতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে যা, ত্বককে সুন্দর করে, ত্বকের গঠনকে উন্নত করে এবং ত্বক হাইড্রেট করে।

উপাদান

ক) ১টি শসা

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) শসা ছোট ছোট টুকরো করে পেস্টে বানান।

খ) মুখে ও ঘাড়ে শসার পেস্ট লাগান।

গ) ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন এবং পরে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

স্ট্রবেরি, লেবু এবং মধু

স্ট্রবেরি, লেবু এবং মধু

স্ট্রবেরি ভিটামিন সি-এর একটি দুর্দান্ত উৎস এবং ত্বকের হাইড্রেশন উন্নত করে। এছাড়া, এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও উন্নত করে এবং হাইপারপিগমেন্টেশন হ্রাস করে। অ্যাসিডযুক্ত লেবু গভীর আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে পরিষ্কার করে।

উপাদান

ক) এক মুঠো স্ট্রবেরি

খ) ২ টেবিল চামচ লেবুর রস

গ) ১ চামচ মধু

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) সমস্ত উপাদান একটি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন।

খ) পেস্টটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান।

গ) প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এটি রেখে দিন।

ঘ) হালকা গরম জল ব্যবহার করে পরে ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ, মধু এবং অলিভ অয়েল

হলুদ, মধু এবং অলিভ অয়েল

হলুদ, মধু এবং জলপাই(অলিভ ) মিশিয়ে লাগালে শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় সহায়তা করে এবং ত্বক স্বাস্থ্যকর ও কোমল রাখে।

উপাদান

ক) ১/২ চা চামচ হলুদের গুঁড়ো

খ) ১ চা চামচ মধু

গ) ১ চা চামচ অলিভ অয়েল

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি বাটিতে হলুদ গুঁড়ো নিন।

খ) এতে মধু এবং অলিভ অয়েল দিয়ে ভালভাবে মেশান।

গ) মিশ্রণটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান।

ঘ) এটি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

ঙ) পরে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল

গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল

গ্লিসারিন ও গোলাপ জল আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে অত্যন্ত উপকারি।

উপাদান

ক) ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন

খ) ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি পাত্রে গ্লিসারিন নিন।

খ) এতে গোলাপ জল যোগ করুন এবং উভয় উপাদান একসঙ্গে ভাল করে মেশান।

গ) মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান।

ঘ) এটি শুকোনোর জন্য প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন।

ঙ) হালকা গরম জল ব্যবহার করে এটি ধুয়ে ফেলুন।

ওটমিল ও কলা

ওটমিল ও কলা

কলার সঙ্গে এক্সফোলিয়েটিং বৈশিষ্ট্যযুক্ত ওটমিল মিশ্রিত করুন। শীতে শুষ্ক ত্বকের সঙ্গে লড়াই করার জন্য এটি একটি শক্তিশালী প্রতিকার।

উপাদান

ক) ১/২ পাকা কলা

খ) ২ টেবিল চামচ ওটমিল

গ) প্রয়োজনমতো গরম জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) একটি ব্লেন্ডারে কলা এবং ওটমিল দিন।

খ) এতে কিছুটা জল দিন এবং ভালভাবে মিশ্রণ তৈরি করুন।

গ) পেস্টটি আপনার মুখে লাগান।

ঘ) ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

ঙ) পরে এটি ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা

ত্বকের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার, অ্যালোভেরা আপনার ত্বককে অন্য স্তরে নিয়ে যেতে পারে। এটিতে ভিটামিন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা, আপনার ত্বককে পুষ্ট করে এবং এটিকে নরম, কোমল এবং হাইড্রেটেড রাখে।

উপাদান

ক) প্রয়োজনমতে ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) অ্যালোভেরা জেল ভালভাবে আপনার মুখ এবং ঘাড়ে লাগান।

খ) এটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন।

গ) পরে ধুয়ে ফেলুন।

নারিকেলের দুধ

নারিকেলের দুধ

নারিকেল দুধে শুষ্ক ত্বকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভিটামিন সি এবং ই রয়েছে। এছাড়াও, নারকেল দুধের অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সমস্ত ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া আটকায়।

উপাদান

ক) প্রয়োজন মতো নারকেল দুধ

ব্যবহারের পদ্ধতি

ক) ঘুমানোর আগে নারকেল দুধ আপনার মুখে লাগান।

খ) সারারাত রেখে দিন।

গ) হালকা গরম জল ব্যবহার করে এটি পরে ধুয়ে ফেলুন।

উপরিউক্ত টিপসগুলি ছাড়াও, শীতে শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধ করতে রইল আরও কয়েকটি টিপস্ -

ক) সারাদিন ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন।

আরও পড়ুন : চুলের সমস্যায় জেরবার? চিন্তার কোনও কারণ নেই, টক দই-তেই চুলের সমস্যার সমাধান

খ) শাওয়ারের গরম জল ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে, হালকা গরম জল ব্যবহার করুন।

গ) আপনার ত্বক সপ্তাহে দু'বার এক্সফোলিয়েট করুন।

X
Desktop Bottom Promotion