ক্লিয়োপেট্রার সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জেনে আপনিও হয়ে উঠুন অপরূপ সুন্দরি!

ক্লিয়োপেট্রা এত সুন্দরি হয়ে উঠেছিলেন কীভাবে? তার অপরূপ সৌন্দর্যের চাবিকাঠিই বা কী ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর কেবল মাত্র আপনাদের জন্যই খুঁজে বার করল বোল্ডস্কাই বাংলা।

ক্লিয়োপেট্রার সৌন্দর্য কোনও ভৌগলিক সীমানা মানেনি। নানা গল্প, নানা গুজবকে সঙ্গী করে ছড়িয়ে পরেছিল ইজিপ্টের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের অন্য প্রান্তেও। সেই কোন কালে বিষাক্ত কোবরার বিষে প্রাণ হারিয়েছিলেন এই রূপবতী। তবু আজও, এই ২১ শতকেও যেন পুরানো হয়নি ক্লিয়োপেট্রার সেই গল্পগাঁথা। তাই তো আজ, বোল্ডস্কাই বাংলায় এমন এক রহস্যের পর্দা তোলা হবে, যা কোনও মেয়ের কাছে স্বর্ন খনির থেকে কম হবে না।

কী এই রহস্য? ক্লিয়োপেট্রা এত সুন্দরি হয়ে উঠেছিলেন কীভাবে? তার অপরূপ সৌন্দর্যের চাবিকাঠিই বা কী ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর কেবল মাত্র আপনাদের জন্যই খুঁজে বার করল বোল্ডস্কাই বাংলা। তাহলে আর অপেক্ষা কিসের। একবার এই প্রবন্ধটি পড়ে জেনে নিন কীভাবে সৌন্দর্যের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন এই ইজিপ্সিয়ান সম্রাজ্ঞী।

১. দুধ এবং মধু দিয়ে স্নান করতেন উনি:

১. দুধ এবং মধু দিয়ে স্নান করতেন উনি:

ক্লিয়োপেট্রার সৌন্দর্য়ের প্রথম ধাপ ছিল তিনি দুধে মধু মিশিয়ে তা দিয়ে স্নান করতেন। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে এই মিশ্রনে যোগ করা হত বাদাম তেলও। তাই তো সময়ের সরণি বেয়ে বয়স বাড়লেও তার ছাপ পারেনি রাণীর ত্বকে। এমনটা হয়তো আপনাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। তবে একটা কাজ করতে পারেন। কী?

৩ কাপ দুধে হাফ কাপ মধু এবং ৫ চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে তা দিয়ে স্নান করুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন ত্বক সুন্দর এবং নরম হয়ে উঠবে।

২. রানীর বডি স্কার্ব:

২. রানীর বডি স্কার্ব:

ত্বকের উপরি অংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্থর এবং ত্বকের গায়ে লেগে থাকা ময়লা ধুয়ে ফেলতে আমরা সকলেই বডি স্কার্ব ব্যবহার করে থাকি। মিশরীয় রাণীর সময়ও বডি স্কার্বের ব্যবহার ছিল চোখে পরার মতো। সে সময় ক্লিয়োপেট্রা বিশেষ এক ধরনের প্রাকৃতিক স্কার্ব দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করতেন। তাতে দুধ এবং মধুর কার্যকারীতা আরও বেড়ে যেত। সেই প্রাকৃতিক বডি স্কার্ব চাইলে আপনি বানাতে পারেন। তার জন্য প্রয়োজন পরবে ২ চামচ সামদ্রিক লবন এবং ৩ চামচ থকথকে ক্রিমের। এই দুটি উপাদান মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি দিয়ে গোলাকার ছন্দে ভাল করে সারা শরীরে ঘোষতে থাকুন। কম করে ৫ মিনিট ঘষার পর ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

৩. ফেস ক্রিম:

৩. ফেস ক্রিম:

ক্লিয়োপেট্রার অপরূপ সৌন্দর্যের আরেক চাবিকাঠি ছিল তার ফেস ক্রিম। এটি বানাতে সে সময় ব্যবহার করা হত ২ চামচ অ্যালো ভেরা জুস, ৪ ড্রাপ গোলাপ জল বা গোলাপ তেল, ১ চামচ বাদাম তেল এবং ২ চামচ ত্বকের জন্য ব্যবহৃত মোম। কীভাবে বানাবেন ক্রিমটি? খুব সহজ! প্রথমে মোমটা নিয়ে হালকা আঁচে গলিয়ে নিন। তারপর তাতে একে একে বাদাম তেল, অ্যালো ভেরা জেল এবং গোলাপ তেল মেশান। ভাল করে মিশ্রনটি নারাতে থাকুন। এমনটা করলে সবকটি উপাদান মিশে যাওয়ার সুয়োগ পাবে। প্রসঙ্গত, আপনার যদি ইচ্ছা হয় তাহলে এই মিশ্রনে ভিটামিন-ই ক্যাপসুলও মেশাতে পারেন। তাতে বেশি উপকার পাবেন। যখন দেখবেন মিশ্রনটি একেবারে টান্ডা হয়ে গেছে, তখন সেটি একটা পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতিদিন এই প্রাকৃতিক ক্রিমটি মাখলে ক্লিয়োপেট্রার মতো সুন্দর হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগবে না।

৪. ফেসিয়াল মাস্ক:

৪. ফেসিয়াল মাস্ক:

এক আজব ধরনের ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহার করতেন এই ইজিপ্সিয়ান সুন্দরি। অনেকে বলে ক্লিয়োপেট্রার সৌন্দর্যের পিছনে এই ফেসিযাল মাস্কের ভূমিকাই ছিল সিংহভাগ। তাই আপনারাও সুন্দরি হয়ে উঠতে এই প্রাকৃতিক ফেসিয়াল মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি বানাতে প্রয়োজন পরবে সাদা কাদামাটি, দুধ, মধু এবং অলিভ অয়েল বা বাদাম তেলের।

২ চামচ সাদা কাদামাটির সঙ্গে ২ চামচ দুধ, ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে এরটা পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ১০-১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এই ফেসিয়াল মাস্কটি দিয়ে রুপচর্চা করলে উপকার পেতে শুরু করবেন।

৫. অ্যান্টিসেপটিক মাস্ক:

৫. অ্যান্টিসেপটিক মাস্ক:

ত্বককে নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে সে যুগেও অ্যান্টিসেপটির মাস্কের ব্যবহার হত এবং সেটি করতেন স্বয়ং রূপের রাণী ক্লিয়োপেট্রা। এই ফেস মাস্কটি বানাতে ব্যবহার করা হত ১ টা ডিমের কুসুম, ১ চামচ বাদাম তেল এবং ১ চামচ মধুর। এই সবকটি উপাদান ভাল করে মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ভাল করে মুখে ঘষতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তুলতে এই প্রাকৃতিক মিশ্রনটির আজ পর্যন্ত কোনও বিকল্প পাওয়া যায়নি বলে মনে করেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।

৬. প্রাকৃতিক শ্যাম্পু:

৬. প্রাকৃতিক শ্যাম্পু:

তৎকালীন এক কবি ক্লিয়োপেট্রার রূপের বর্ণনা দিয়ে গিয়ে লিখেছিলেন, ক্লিয়োপেট্রার চুল ছিল নীল নদের মতো প্রবহমান। তার গভীরতা এবং নিকশ কালো রঙ ছিল যেন বর্জগর্ভ মেঘের মতো। ইজিপ্টের শেষ রাণীর চুলের সৌন্দর্যে বাস্তবিকই সে সময় অনেকে চোখ উল্টাতেন। আসলে এত সুন্দর চুলের পিছনে একটি প্রাকৃতিক শ্যাম্পু অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। এই শ্যাম্পুটি বানানো হত তিনটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে। দীর্ঘ সময় চুলের ঔজ্জ্বল্য এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে এই প্রাকৃতিক মিশ্রনটি দারুন কাজে আসত। তাই আপনিও যদি ক্লিয়োপেট্রার মতো সুন্দর চুলের অধিকারি হয়ে উঠতে চান, তাহলে আজ থেকেই কাজে লাগাতে শুরু করে দিন এই প্রাকৃতিক শ্যাম্পুটিকে।

X
Desktop Bottom Promotion