For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই ১০টি প্রাকৃতিক উপাদান!

|

রুপচর্চা যে কেবলমাত্র আজকের যুগেই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে তা কিন্তু নয়, প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চা মানব জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এখনকার মতো এত গ্ল্যামারাস রূপচর্চা সামগ্রী হয়তো ছিল না, তবে এমন অনেক প্রাকৃতিক উপকরণ তখনকার রুপচর্চায় ব্যবহৃত হত যেগুলি আজও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাচীনকালে ব্যবহৃত উপকরণগুলি আজও ব্যবহার করা হয় রূপচর্চায়। আজ আমরা তেমন কিছু উপকরণের কথাই জানবো, যা এই সময়েও বহুল ব্যবহৃত হয়।

নিম

নিম

নিম গাছের প্রতিটি অংশই কোনও না কোনওভাবে আমাদের উপকার করে। ব্রণ-পিম্পল ও ড্রাই স্কিনের সমস্যা নিমেষেই সমাধান করতে পারে নিম। এছাড়া, চুলের নানান সমস্যাও দূর করে এই পাতা।

১) কয়েকটি নিম পাতা জলে ভালভাবে ফুটিয়ে নিন। তারপর তাতে তুলো ডুবিয়ে পুরো মুখে ঘষুন।এছাড়া, আপনার মুখের তৈলাক্ততা কমাতে নিম-দই বা নিম-শসার ফেসপ্যাকও ব্যবহার করতে পারেন।

২) অল্প পরিমাণে নিম পাউডারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গ্রেপ সিড অয়েল যোগ করুন।এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩) নিমের তেল দিয়ে চুলের গোড়া বা স্ক্যাল্পে ভালভাবে ম্যাসাজ করুন। খুশকি কমাতে জলে নিম পাউডার মিশিয়ে চুলে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

কেশর

কেশর

বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই মশলাটি ত্বকের বর্ণ উন্নত করতে, ত্বক উজ্জ্বল করতে খুবই পরিচিত। ত্বকের ট্যান সহজেই দূর করতে পারে কেশর।

১) কিছুটা কেশর নিয়ে মালাই বা মিল্ক ক্রিমে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে এটি ব্লেন্ড করে ট্যানের জায়গায় লাগান।

২) গোলাপ জলে কিছুটা কেশর মেশান। গোলাপ জল কেশরের রঙের হয়ে গেলে তাতে তুলো ডুবিয়ে আপনার মুখে লাগান।

৩) কয়েকটি কেশর আধা ঘণ্টা দুধে ভিজিয়ে রাখুন।এক চা চামচ চন্দন গুঁড়ো এই মিশ্রণে যোগ করুন। এবারআপনার মুখে প্যাকটি লাগান এবং ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মধু

মধু

মধুর উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। ত্বকের নানান সমস্যা এক চুটকিতেই দূর করতে পারে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। ত্বকের পোড়া দাগ, দাগ-ছোপ দূর করে নিখুঁত করে তোলে মধু।

১) পোড়া দাগের ওপর সরাসরি মধু প্রয়োগ করতে পারেন, কারণ মধুতে অ্যান্টিসেপটিক এবং নিরাময় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পুড়ে যাওয়া স্থানে নিয়মিত মধু লাগালে দাগ হালকা হতে থাকবে।

২) মালাই, চন্দন, বেসন এবং রোজ অয়েলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করুন।মুখ এবং গলায় এই মাস্ক লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। তারপরে ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের ধুলো-ময়লা দূর করে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তোলে।

আমলকি

আমলকি

গুজবেরি নামেও পরিচিত এই ফলটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। চুল পড়া কমাতে ও চুলে পুষ্টি যোগাতে দুর্দান্ত কার্যকর আমলকি।

১) ২ চা চামচ আমলা পাউডার বা জুস নিয়ে তাতে সম পরিমাণ লেবুর রস মেশান।এটি মাথার ত্বকে লাগিয়েশুকিয়ে নিন। তারপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২) একটি লোহার পাত্রে আমলকি, রিঠা ফল এবং শিকাকাই নিয়ে সিদ্ধ করুন। সারারাত রেখে দিন।পরের দিন ওই জল ছেঁকে এটি দিয়ে শ্যাম্পু করুন।

মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটি অন্যতম সেরা প্রাচীন সৌন্দর্য রহস্য। এটি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার এবং ক্লিনজার হিসেবে পরিচিত। ব্রণ-পিম্পলের দাগ ও ত্বকের অন্যান্য দাগ-ছোপ দূর করতে মুলতানি মাটি দারুণ কার্যকর।

১) পরিমাণমতো মুলতানি মাটির সঙ্গে টমেটোর রস মেশান। এর মধ্যে এক চিমটি হলুদ এবং চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

২) মুলতানি মাটিতে কয়েকটা পুদিনা পাতা এবং দই দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকেরকালো দাগ-ছোপের ওপর লাগান।আধা ঘণ্টা রেখে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ

হলুদ

ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই উপাদানটি নিঃসন্দেহে অপরিহার্য। যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে তো লাগেই, এছাড়াও ত্বক ও স্বাস্থ্যেরও নানান উপকার করে। ত্বকের স্ট্রেচ মার্ক, বলিরেখা দূর করে এবং পা ফাটা থেকেও মুক্তি দেয়।

১) বেসন ও দইয়ের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে স্ট্রেচ মার্কে প্রয়োগ করুন।হলুদের বৈশিষ্ট্যগুলি স্ট্রেচ মার্ক হালকা করতে সহায়তা করে।

২) চালের গুঁড়ো, কাঁচা দুধ এবং টমেটোর রসহলুদের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এইপেস্টটি মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

৩) হলুদের সঙ্গে নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েল মেশান।স্নানের আগে এই মিশ্রণটি ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।

চন্দন

চন্দন

চন্দনে অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং ত্বকের রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে। ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে চন্দন।

১) আমন্ড গুঁড়ো চন্দনের এর সঙ্গে মেশান।এই মিশ্রণে কাঁচা দুধও যোগ করুন।স্নানের আগে মুখে, হাতে এবং পায়ে প্রয়োগ করুন।

২) কাঁচা দুধের সঙ্গে চন্দন মিশিয়ে মুখে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তুলসি

তুলসি

প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তুলসি গাছ থাকে। ব্রণ কমায় এবং ত্বকে পুষ্টি যোগায় তুলসি। এছাড়া, দাঁত সাদা করতেও পরিচিত।

১) কয়েকটা তুলসী পাতা ব্লেন্ড করে তাতে সামান্য দুধ মেশান। এবার মুখে লাগান।

২) কয়েকটি তুলসী পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করুন।এতে কমলালেবুর খোসা দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।এই পেস্টটি দিয়ে দাঁত ঘষুন, দেখবেন দাঁত একেবারে সাদা হয়ে গেছে।

দই

দই

দইতে জিঙ্কের উপস্থিতির কারণেই সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকর এটি। ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা নিমেষেই সমাধান করতে পারে দই। শীতকালে শুষ্ক চুলের সমস্যা দূর করে ও চুল সিল্কি করে তোলে দই।

১) ২টি ফেটানো ডিমে দুই টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে মেশান।এই পেস্টটি মাথার ত্বক ও চুলে লাগান এবং প্লাস্টিক ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শুষ্ক চুলের সমস্যা দূর হবে।

২) লেবুর রস, ডিম, মধুদইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান।৩০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল সিল্কি হয়ে উঠবে।

বেসন

বেসন

ভারতীয় রান্নায় ব্যবহৃত অন্যতম উপাদান হল বেসন। প্রায় সব বাড়িতেই থাকে এটি। তবে কেবল রান্নাতেই ব্যবহার হয় না, পাশাপাশি এটি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও দারুণ কার্যকর। ত্বকের বিভিন্ন দাগ-ছোপ দূর করে, ত্বককে উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে বেসন।

১) পরিমাণমতো শসার রস বেসনের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২) আমন্ড পাউডারের সঙ্গে লেবুর রস এবং এক চা চামচ দুধ মেশান। বেসনের সঙ্গে এগুলি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।এটি মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

English summary

Beauty Secrets of Ancient India That Every Modern Woman Must Know

Here are 10 incredible Ancient Indian Beauty Secrets that every modern women must know. Read on.
X