অপরূপ সুন্দরি হয়ে উঠতে চান? তাহলে কাজে লাগান সজনে বীজের তেলকে

সজনে শাক দিয়ে বানানো যে কোনও পদ যেমন মুখরচক হয়, তেমনি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও দারুন কাজে লাগে।

সজনে শাক দিয়ে বানানো যে কোনও পদ যেমন মুখরচক হয়, তেমনি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও দারুন কাজে লাগে। তবে এক্ষেত্রে সজনে শাক নয়, সজনে বীজকে পিষে যে তেল পাওয়া যায়, সেটি ত্বককে সুন্দর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সজনে বীজের তেলকে কাজে লাগিয়ে ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য় বৃদ্ধির নানা উপায় সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন বাকি প্রবন্ধে।

এই তেলটিতে প্রচুর মাত্রায় ফটোনিউট্রিয়েন্টস থাকার কারণ এটি শুধু ত্বকের নয়, সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে শরীরেরও অনেক উপকার লাগে। শুধু তাই নয়, সজনে বীজের তেলে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন এবং উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে এটি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কী কী উপকারে লাগে এই তেলটি? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

১. ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে:

১. ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে:

পরিবেশ দূষণের কারণে আজকাল বেশিরভাগেরই ড্রাই স্কিনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে মুখের সৌন্দর্য কমছে চোখে পরার মতো। এক্ষেত্রে সজনে বীজের তেল ব্যবহার করলে ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা ময়লার স্থর যেমন সরে যায়, তেমনি পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবও হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতাও দূর হয়।

এক্ষেত্রে অল্প করে তেলটা নিয়ে ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, এইভাবে তেলটা মালিশ করলে সারাদিনের ক্লান্তিও দূর হয়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে।

২. ত্বকের বয়স কমায়:

২. ত্বকের বয়স কমায়:

সজনে বীজের তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা বলিরেখা কমানোর মাধ্যমে স্কিনের বয়স কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. জ্বালাভাব কমায়:

৩. জ্বালাভাব কমায়:

প্রতুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকার কারণে এই তেলটি নিয়মিত মাখলে অ্যালার্জির প্রকোপ যেমন কমে। সেই সঙ্গে ত্বকের নানাবিধ প্রদাহও হ্রাস পায়।

৪. ত্বকের শুষ্কতা দূর করে:

৪. ত্বকের শুষ্কতা দূর করে:

ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়ার কারণে চামড়া উঠতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে এই তেলটির ব্যবহার শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের অন্দরে জলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে স্কিন তার হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে পায়। প্রসঙ্গত, সজনে বীজের তেলটি নানাবিধ খনিজ, ভিটামিন এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এই ধরনের ত্বকের সমস্যার সমাধানে দারুন কাজে আসে।

৫. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

৫. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

ব্ল্য়াক হেডস, ব্রণ এবং ফোঁড়ার প্রকোপ কমানোর পাশপাশি ত্বকের নানাবিধ রোগের উপসমে এই তেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল প্রপাটিজ, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, অল্প করে তেলটি নিয়ে হালকা গরম করে নিন। তারপর সেটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করুন। সারা রাত তেলটা মুখে রেখে দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন।

৬. খুশকির প্রকোপ কমায়:

৬. খুশকির প্রকোপ কমায়:

অল্প করে এই তেলটি নিয়ে আপনার পছন্দের যে কোনও শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় মাখুন। তারপর হালকা গরম জল দিয়ে চুলটা ধুয়ে নিন। টানা ১ সপ্তাহ এইভাবে স্কাল্পের পরিচর্যা করলে দেখবেন খুশকির সমস্যা একেবারে কমে গেছে।

৭. স্কালের প্রদাহ কমায়:

৭. স্কালের প্রদাহ কমায়:

অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে পরিপূর্ণ থাকার কারণে এই তেলটি নিয়মিত ব্যবহার করলে স্কল্পে জমে থাকা ময়লা এবং ধুলোর স্থর সরে যায়। সেই সঙ্গে স্কাল্পে প্রদাহও অনেকাংশে হ্রাস পায়।

৮. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৮. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

ভিটামিন এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে সজনে বীজের তেল, চুল সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যার প্রকোপ কমানোর পাশপাশি সার্বিকভাবে চুলের সৌন্দর্য়ের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু কী তাই, চুলকে মজবুত এবং দীর্ঘ করতেও এই প্রাকৃতিক তেলটি দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।

Story first published: Friday, April 7, 2017, 17:55 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion