চুল ও ত্বকের পরিচর্যায় নিম তেলের ভূমিকা

গন্ধে অনেকে নাক সিঁটকোয়। তাতে কী! গুণ তো সে রাজা। ত্বক ভালো রাখতে নিম তেল কেমনভাবে কাজে আসে, তা জানতে পড়ুন এই প্রবন্ধটি।

By Nayan Munshi

সেই প্রাচীন কাল থেকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসার নিম তেল ব্য়বহার হয়ে আসছে। তাই বলে কি এই প্রযুক্তির যুগে তার কদর কমেছে। একেবারেই না! বরং যত দিন যাচ্ছে, তত যেন নিম তেলের ব্য়বহার আরও বেশি করে বাড়ছে। কারণ কি জানেন? চুল ও ত্বককে ভালো রাখতে নিম তেল দারুন কাজে আসে। চলুন এবার একটু জেনেনি সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই তেল কীভাবে আমাদের সাহায্য় করে থাকে।

সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের নানা রোগে এটি দারুন কাজে দেয়। তাই য়ারা নিমের গন্ধে নাক সিটকোন, তারা একবার এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলুন। তাহলেই দেখবেন আপনাদের ভালো না লাগা কেমন ভালো লাগাতে বদলে যায়।

১. ব্রণ কমায়:

১. ব্রণ কমায়:

নিম তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপাটিজ থাকায় এটি যদি মুখে লাগানো যায়, তাহলে ব্রণর সমস্য়া কমতে শুরু করে। কীভাবে লাগাতে হবে? ব্রণ কমাতে কয়েক ফোঁটা নিম তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্য়াভেন্ডর তেল মিশিয়ে ব্রণর উপর লাগান। প্রসঙ্গত, কখনই নিম তেল সরাসরি মুখে লাগাবেন না।

২. খুশকি দূর করে:

২. খুশকি দূর করে:

সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেই এই ধরনের ত্বকের সমস্য়া হয়ে থাকে, যা নিম তেলের ব্য়বহারে একদম কমে যায়। এখানেই শেষ নেয়। স্কাল্পের যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতেও নিম তেলের জুরি মেলা ভার। কীভাবে ব্য়বহার করতে হবে এটি? আপনি যে শ্য়াম্পু ব্য়বহার করেন তাতে কয়েক ড্রপ নিম তেল মিশিয়ে রোজ মাথায় লাগান। তাহলেই দেখবেন সমস্য়া কেমন কমতে শুরু করে দিয়েছে।

৩. পায়ের আঙুলের সংক্রমণের চিকিৎসায়:

৩. পায়ের আঙুলের সংক্রমণের চিকিৎসায়:

এই ধরনের সংক্রমণ সাধারণত নোংড়া থাকলে হয়। আর এই রোগ হলে পায়ে যন্ত্রণা হওয়ার মতো লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে। অ্যাথলিট ফুট নামে পরিচিত এই ত্বকের সমস্য়ার প্রকোপ কমাতে নিম তেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিলিয়ে যে জায়গায় সংক্রমণ হয়েছে সেখানে লাগান। এমনটা রোজ করলে, অল্প দিনেই দেখবেন রোগ কমতে শুরু করেছে।

৪. ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করে:

৪. ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করে:

নিমে অ্যান্টিব্য়াকটেকিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করতে এটি দারুন কাজে আসে। নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে মুখে লাগান, তাহলেই দেখবেন সমস্য়া কমতে শুরু করে দিয়েছে।

৫. একজিমা সারায়:

৫. একজিমা সারায়:

ত্বকের একধরনের প্রদাহজনিত রোগ হল একজিমা। নানা কারণে বহু মানুষ এই ধরনের ত্বকের সমস্য়ায় ভুগে থাকেন। একজিমার প্রকোপ কমাতেও নিম তেল দারুন কাজ দেয়। শরীরের যে যে জায়গায় একজিমা হয়েছে, সেখানে সেখানে নিম তেল লাগালে যন্ত্রণা কমে। তবে ভুলেও যেন সরাসরি ত্বকের উপর নিম তেল ব্য়বহার করবেন না। পরিবর্তে সামান্য় গরম জলে কয়েক ড্রপ নিম তেল মিশিয়ে তা দিয়ে স্নান করুন। এমনটা প্রতিদিন করলে দেখবেন রোগ কমতে শুরু করেছে।

৬. মাশার উপদ্রব কমায়:

৬. মাশার উপদ্রব কমায়:

বাড়িতে মশার উৎপাত বাড়লেই আমরা বাজার চলতি নানা ক্রিম লাগানো শুরু করি। কারও কি জানা আছে এই ধরনের সমস্য়ায় নিম তেল দারুন কাজে আসে। কীভাবে ব্য়বহার করতে হবে? খুব সহজ! ১০-১৫ ফোটা নিম তেল, হাফ কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে লাগান। তাহলেই দেখবেন মশারা আর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারছে না।

৭. ত্বককে আদ্র রাখে:

৭. ত্বককে আদ্র রাখে:

শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা নিয়মিত এই তেল লাগালে সমস্য়া অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে ভালো করে সারা শরীরে মাসাজ করলেই দেখবেন ত্বক সুন্দর হতে শুরু করেছে।

৮. হাইপারপিগমেন্টটেশন কমায়:

৮. হাইপারপিগমেন্টটেশন কমায়:

ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বাড়লেই আশঙ্কা বাড়ে হাইপারপিগমেন্টটেশনের সমস্য়া হওয়ার। নিয়মিত যদি সারা শরীরে নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে লাগানো যায় তাহলে মেলানিনের মাত্রা কমে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কমতে শরু করে হাইপারপিগমেন্টটেশনও।

Story first published: Thursday, January 12, 2017, 11:28 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion