আপনি কি মুগ ডাল খেতে ভালোবাসেন? তাহলে এই লেখাটি না পড়লে কিন্তু ভুল করবেন!

Subscribe to Boldsky

আজ থেকে প্রায় ৩৫০০ বছর আগে এদেশে মুগ ডালের চাষ শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে ডালটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পরে চিন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাকি দেশগুলিতেও। আর এখন তো মুগ ডালের গ্রহণযোগ্যতা প্রায় আকাশছোঁয়া। আর কেন হবে নাই বালুন! এই ডালটি স্বাদে যেমন চোখা, তেমনি গুণেও ডালটির কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না।

প্রসঙ্গত, একাধিক স্টাডির পর এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই যে প্রোটিন, ফাইবার, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি১, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৫, বি৬ এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই ডালটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরের তো কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন...

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

শরীরে উপস্থিত ছোট-বড় সব রোগ দূরে পালাক, এমনটা যদি চান, তাহলে রোজের ডেয়েটে মুগ ডালকে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন! কারণ প্রতিদিন এই ডালটি খাওয়া শুরু করলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আর এমনটা যখন হয়, তখন নানাবিধ রোগ যে আর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না, তা তো বলাই বাহুল্য!

২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। আর যখন মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ে, তখন যে শুধু বুদ্ধির ধার বাড়ে, এমন নয়, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ ক্ষমতার উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না। আর ঠিক এই কারণেই তো ছোট বাচ্চাদের প্রতিদিন মুড ডাল খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে:

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে:

কাজের চাপ এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অল্প বয়সেই কি ত্বক তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে? তাহলে বন্ধু অল্প করে মুগ ডাল নিয়ে তা বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্ট ভাল করে মুখে লাগান। এমনটা প্রতিদিন করলে ত্বকের অন্দরে ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি দূর হয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য ফিরতে সময় লাগে না। আর যদি একান্তই ফেস প্যাকটি বানাতে সময় না পান, তাহলে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন স্কিন ধীরে ধীরে খুব সুন্দর হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে বলিরেখাও কমতে থাকবে। ফলে ত্বক হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত!

৪. মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য়ের উন্নতি ঘটে:

৪. মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য়ের উন্নতি ঘটে:

মুগ ডালে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম এবং আরও সব উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে মুখ গহ্বর সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা যায় কমে।

৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

মুগ ডাল খাওয়া মাত্র কলেকসিস্টোকিনিন নামক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, এই হরমোনটির উৎপাদন যত বাড়তে থাকে, তত ক্ষিদে কমতে থাকে। তখন মনে হয় যেন পেটটা অনেক ভরে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমতে থাকে। আর খাবার কম খেত খেতে ওজনও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৬. চুলের সৌন্দর্য বাড়ে:

৬. চুলের সৌন্দর্য বাড়ে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে কপারের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে, যার প্রভাবে স্কাল্পের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে একদিকে চুল পড়ার হার কমে, আর অন্যদিকে চুলের সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পরার মতো। প্রসঙ্গত, অল্প পরিমানে মুগ ডাল নিয়ে তা বেটে নিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণ মতো গ্রিন টি, অলিভ অয়েল এবং টক দই মিশিয়ে যদি চুলে লাগাতে পারেন, তাহলে আরও দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৭.পেটের রোগ সব দূরে পালায়:

৭.পেটের রোগ সব দূরে পালায়:

বাঙালি মানেই অল্প-বিস্তর পেটুক তো হবেই। আর পেটুক হওয়া মানেই পকেটে অ্যান্টাসিড থাকা মাস্ট! আসলে বেনিয়মে খাওয়া-দাওয়া করার কারণে বদ-হজম বাঙালির রোজের সঙ্গী। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে লেজুড় হয় গ্যাস-অম্বলও। এই কারণেই তো পেটুক মানুষদের প্রতিদিন নানাভাবে মুগ ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরো। আসলে এই ডলটিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর বিশেষ ধরনের কিছু ফ্যাটি অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা পাকস্থলির কর্মক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৮.লোহীত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ে :

৮.লোহীত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ে :

প্রচুর মাত্রায় আয়রন থাকার কারণে নিয়মিত এই ডালটি খেলে শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যানিমিয়ার মতো রোগ বেশি দিন শরীরকে কব্জা করে থাকতে পারে না। প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস আগে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে আমাদের দেশে, তা সে গ্রামাঞ্চল হোক, কী শহরাঞ্চল, অ্যানিমিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুগ ডাল খাওয়ার প্রয়োজন যে বাড়ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

৯. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে:

৯. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে:

যে যে রোগের কারণে ২১ শতকের পৃথিবীতে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটছে, তার মধ্যে অন্যতম হল ডায়াবেটিস। আর আমাদের দেশ তো আজকের ডেটে সারা বিশ্বের মধ্যে ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। তাই তো চিকিৎসকেরা ছোট থেকে বড় সবাইকেই মুগ ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু মুগ ডালের সঙ্গে ডায়াবেটিসের কী সম্পর্ক? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মুগ ডাল শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের অন্দরে এমন কিছু খেল দেখাতে শুরু করে যে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই তো যাদের পরিবারে এমন মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বেশি করে মুগ ডাল খাওয়া উচিত।

১০. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

১০. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

বলেন কী মশাই ডাল খেলে হাড় শক্ত হয়? একেবারেই। আর কেন হবে নাই বা বলুন! মুগ ডালে ঠেসে ঠেসে ভরা রয়েছে ক্যালসিয়াম। আর এই খনিজটি যে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়, তা কী আর বলে দিতে হবে। তাই বুড়ো বয়সে যদি কোমর এবং হাঁটুর যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে না চান, তাহলে এখন থেকেই নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

১১. হার্টের ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১১. হার্টের ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

আজকের দিনে যুব সমাজের জীবনযাত্রা এমন হয়েছে যে হার্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়ার প্রয়োজনও বেড়েছে। কারণ এই ডালটির শরীরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার একদিকে যেমন রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে, তেমনি শরীরে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    The many benefits of Moong Dal

    A 100 gram serving of mung beans offers only 330 calories, making it one of the healthiest ways to lose weight. People who are looking to lose weight can include mung beans in their diet to stay healthy while shedding the extra pounds.
    Story first published: Friday, September 7, 2018, 17:20 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more