For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস : ডায়াবেটিস কেন হয়? রইল এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

|

প্রতি বছর, নভেম্বর মাসটিকে ডায়াবেটিস সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বব্যাপী এটি উদযাপিত হয় এবং আজ অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর, বিশ্বব্যাপী 'বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস' পালন করা হয়। দ্য ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন এবং আই সি এম আর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। কিন্তু কেনো এই বাড়বাড়ন্ত ? তার সঠিক কারণ এখনও অজানা। সাধারণ অর্থে ধরে নেওয়া যায় আমাদের নিজেদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্যেই ডায়াবেটিসের উদ্ভব। তাই চিকিৎসকেরা একে ' লাইফস্টাইল ডিজিজ' হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন।

World Diabetes Day

বর্তমান দিনে সকলেই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন। কিন্তু তার মাঝেও ডায়াবেটিস মাথাচাড়া দিয়ে বসেছে। কিন্তু কী ভাবে? কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা কোনও জটিল অসুখের মুখে পড়লে তখন নিজের স্বাস্থ্যকে নিয়ে সচেতন হচ্ছি। তার আগে আমরা নিজেদের বিশৃঙ্খল জীবনযাত্রায় নিমজ্জিত করে রাখি। তবে চলুন বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে এবং ডায়াবেটিস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। মেনে চলা যাক কিছু নিয়মাবলি।

ডায়াবেটিস কী ও কেন হয়?

প্রাচীনকাল থেকে আমরা শুনে আসছি 'মধুমেহ' নামে শরীরের উপসর্গটিই হচ্ছে বর্তমান দিনের 'ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ'। ডাক্তারি ভাষায় বিবেচনা করে বলা হয় মেলিটাস, ইনসিপিডাস, এডিএইচ, অ্যান্টিভাই ইউরেটিক হরমোনের ক্রিয়াকলাপের ফল। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে শর্করা বা গ্লুকোজ শোষণ করে। যার ফলে শরীরে শক্তি উৎপাদন হয় এবং সঠিক ভাবে দেহ চলাচলে উপযোগী হয়। যখন অগ্ন্যাশয় পরিমাণ মতো এই ইনসুলিন হরমোন উৎপাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে তখন রক্তে সুনির্দিষ্ট মাত্রার অধিক শর্করা বা চিনির আধিক্য দেখা দেয়। ফলে তখনই মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

এই রোগের সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেগুলি ভাল করে খেয়াল করলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস রোগটি। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি হল:

১) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং শরীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে গ্লুকোজ নির্গত হওয়া।

২) ঘন ঘন জল তেষ্টা পাওয়া।

৩) শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হওয়া।

৪) ঘন ঘন খিদে পাওয়া।

৫) দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পাওয়া।

৬) ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া।

৭) হাতে-পায়ে ব্যথা অনুভূত হওয়া বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া।

৮) শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে তা সহজে সারতে চায়না।

৯) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।

১০) চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়।

রোগ নির্ণয়

উপরিউক্ত লক্ষণের উপর নির্ভর করে নিজেরা রোগ নির্ণয় করলেও রোগটি কতটা দীর্ঘায়িত হয়েছে তা জানতে ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন।

১)ডাক্তারের তৈরি করা প্রেসক্রিপশন-এর ভিত্তিতে শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করা আবশ্যক।

২) সারারাত অথবা অন্তত আট ঘণ্টা উপবাস থেকে ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ টেস্ট করান। রক্তে স্বাভাবিক প্লাজমা গ্লুকোজের মাত্রা ১১০ মিগ্রা / ডিএল-এর কম থাকে তা স্বাভাবিক এবং ১২৬ মিলিগ্রাম / ডিএল এর বেশি থাকলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে নির্ধারণ করা হয়।

৩) খাওয়ার দু'ঘণ্টা পর পোস্ট প্রান্ডিয়াল (পিপি) প্লাজমা গ্লুকোজ টেস্ট করান। পিপির স্তর ১৪০ মিগ্রা / ডিএল-এর বেশি থাকলে তাকে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়। আর ২০০ মিলিগ্রাম / ডিএল-এর বেশি থাকলে ডায়াবেটিস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ নির্গত হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে রোগী শারীরিক ভাবে দুর্বলতা অনুভব করে। এই অবস্থায় যদি রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে শরীরের রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি থেকে চোখ ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার সঙ্গে এই রোগের যেহেতু সরাসরি যোগ রয়েছে, তাই যে কোনও নিয়ম মানার আগে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

১) ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। সঠিক সময়ে ওষুধ গ্রহণ করুন।

২) নিয়মমাফিক ইনসুলিন ব্যবহার করুন।

৩) শরীরে ভিটামিন ডি- এর ঘাটতি দেখা দিলে ইনসুলিন রেজিসটেন্সের আশঙ্কা থাকে। তাই আজ থেকেই ভিটামিন- ডি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- মাছ, দুধ, কমলা লেবুর রস, সোয়া দুধ এবং ডিম খাওয়া শুরু করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪) প্রতিদিন বার্লি খান। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। সেই সঙ্গে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে।

৫) কখনোই খালি পেটে থাকবেন না। তিন থেকে চার ঘণ্টা অন্তর খাবার গ্রহণ করবেন।

৬) রোজ সকালে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে ১ চামচ মেথি পাউডার মিশিয়ে খান। মেথিতে উপস্থিত উপাদান গুলি দ্রুত শর্করার মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অল্প দিনেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে।

৭) রোজ খাবার সবুজ শাকসবজি খান। এগুলি রক্তে সুগারের মাত্রা কমতে সাহায্য করে। যেমন - পালং শাক, কর্নফ্লাওয়ার, লেটুস জাতীয় শাকসবজি।

৮) রোজ নিয়মমাফিক ফল খান। ফলে ফাইবার থাকায় তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রাও কমতে থাকে।

৯) রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিক রোগীদের মাথায় রাখতে হবে শরীরে জলের পরিমাণ যত কমবে, তত কিন্তু পরিস্থিত হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই সময়মতো জল পান করতে হবে।

১০) কাঁচা হলুদ বেটে বা হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে অ্যালোভেরা ও জল মিশিয়ে জুস তৈরি করুন। রোজ রাতে খাওয়ার আগে অল্প করে পান করুন। এতে ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

১১) প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় নিয়ম করে ১৫ থেকে ৩৯ মিনিট হাঁটতে হবে এবং শরীর চর্চা করতে হবে। এতে সুগারের মাত্রা অনেকটাই কমতে থাকে।

১২) সর্বোপরি ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের রাতজাগা চলবে না। রাত জাগলে অসুখের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

English summary

World Diabetes Day : Diabetes: Causes, Symptoms, Diagnosis And Treatment

Every year, the month of November is observed as the Diabetes Awareness Month And, 14 November is observed as World Diabetes Day. Read on to know the Diabetes causes, symptoms, diagnosis and treatment.
Story first published: Thursday, November 14, 2019, 11:45 [IST]
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more