For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

চুল পড়া ও খুশকির সমস্যাকে চিরতরে দূর করতে চান? বাড়িতেই তৈরি করুন হেয়ার অয়েল

|

কথায় বলে 'জলে চুন তাজা, তেলে চুল তাজা'। হ্যাঁ এটা কিন্তু চিরন্তন সত্য যে, কালো, ঘন, উজ্জ্বল চুল পেতে সবার প্রথমে দরকার কিন্তু অয়েল ম্যাসাজ। তেল থেকেই আমাদের চুল ও স্ক্যাল্প বেশি পুষ্টি পায়। চুলে নিয়ম করে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে চুল পড়া, খুশকির বাড়বাড়ন্ত, চুল ফাটা ও রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা অনেকটাই কমে। স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে। তবে চুলের যত্নে মার্কেট থেকে কেনা তেলের পরিবর্তে, ঘরে তৈরি তেল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি বাজারের খরচসাপেক্ষ নামিদামি ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেকগুণ বেশি কার্যকর।

তেলে ভেষজ কিছু উপাদান মিশিয়েই আপনি হেয়ার অয়েল তৈরি করতে পারেন। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাড়িতে কীভাবে তেল তৈরি করবেন এবং ঘরোয়া তেলের উপকারিতা সম্পর্কে।

১) অনিয়ন অয়েল

১) অনিয়ন অয়েল

পেঁয়াজে উচ্চ সালফার থাকে, যা বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা করতে পারে। পেঁয়াজের তেল চুলের বৃদ্ধি করে এবং চুল ফাটা রোধ করতে পারে। এছাড়াও, এটি চুলের pH লেভেল ঠিক রাখে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। চুল পড়া বন্ধ করে।

এই তেল তৈরি করতে, প্রথমে কিছু পেঁয়াজ এবং কারিপাতা নিয়ে মিহি করে পিষে নিন। এরপর, এই পেস্টে নারকেল তেল দিয়ে কম আঁচে মিশ্রণটি গরম করুন। ৫-১০ মিনিট পরে আঁচ বাড়ান এবং ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার ১৫ মিনিট আঁচ কম করে ফোটান, তারপর গ্যাস বন্ধ করে দিন। সারারাত এই মিশ্রণটি ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। পরের দিন সকালে তেলটি ছেঁকে নিয়ে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

২) আমলকীর তেল

২) আমলকীর তেল

এই তেলটি পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। অকালে চুল পেকে যাওয়া এবং চুল পড়া রোধ করে। এটি চুলের বৃদ্ধি করে, মাথার ত্বককে ঠাণ্ডা করে এবং চুল উজ্জ্বল করে তোলে।

এর জন্য, এক কাপ নারকেল তেল এবং বীজ বার করা কয়েকটি আমলকি নিন। আমলকি পিষে নিয়ে একটি পাত্রে রস ছেঁকে নিন। এবার একটি প্যানে নারকেল তেল এবং আমলকির রস ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। দেখবেন ফুটতে ফুটতে মিশ্রণটি বাদামি হয়ে যাবে। তারপর তেলটি একটি পাত্রে ছেঁকে ঠান্ডা হতে দিন।

৩) হার্বাল অয়েল

৩) হার্বাল অয়েল

তুলসি এবং নিম পাতা মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা নিরাময়ে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য, মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে এবং খুশকি প্রতিরোধে খুব সহায়ক।

এই অয়েলটি তৈরি করতে, তাজা তুলসী পাতা, নিম পাতা এবং মেথি বীজ নিয়ে ভাল করে পিষে নিন। তারপর তাতে পরিমাণমতো নারকেল তেল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে ওই তেল ছেঁকে কাঁচের বয়ামে রেখে ব্যবহার করুন।

৪) কালো জিরার তেল

৪) কালো জিরার তেল

কালো জিরা ভিটামিন এ, বি, সি, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের ভাল উৎস। কালো জিরার তেলে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য বর্তমান, যা মাথার ত্বক শুকনো ও পরিষ্কার রাখে। চুলের বৃদ্ধি করে এবং চুল ফাটা রোধ করে।

এই তেলটি তৈরি করতে, এক টেবিল চামচ কালো জিরে গুঁড়ো করে নিন। তারপর একটি কাঁচের বয়ামে পরিমাণমতো নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল নিয়ে তাতে কালো জিরে গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর দু-তিনদিন রেখে দিলেই তৈরি কালো জিরার তেল। প্রতিবার ব্যবহার করার আগে এই তেলটি সামান্য পরিমাণে নিয়ে গরম করে মাথায় লাগান।

৫) হিবিস্কাস অয়েল

৫) হিবিস্কাস অয়েল

ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জবা ফুল চুলের বৃদ্ধি করে, চুল পড়া রোধ করে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করে। নারকেল তেলের সাথে জবা ফুল মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল উজ্জ্বল হয়, চুল ফাটা কমবে, চুলের বৃদ্ধি হবে ও চুল ঘন হবে।

হিবিস্কাস অয়েল তৈরি করতে, প্রথমে জবা ফুলের কয়েকটা পাপড়ি পিষে নিন। এরপর একটি পাত্রে নারকেল তেলের সাথে এই পেস্ট মিশিয়ে ভাল করে ফোটান, যতক্ষণ না পর্যন্ত রঙ পরিবর্তন হচ্ছে। তারপর ঠান্ডা হয়ে গেলে, ওই তেল ছেঁকে নিন এবং একটি কাঁচের বয়ামে রেখে ব্যবহার করুন।

৬) কারিপাতার তেল

৬) কারিপাতার তেল

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কারিপাতা চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া কমায়। আর এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, ফলে খুশকিও কমাতে পারে।

একটি ছোটো পাত্রে এক কাপ নারকেল তেলে এক মুঠো কারি পাতা দিয়ে গরম করুন। এই মিশ্রণটি ততক্ষণ গরম করুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তেলের উপর কালো স্তর পড়ছে। তারপর তেলটি ঠাণ্ডা হলে পাতাগুলো ফেলে দিয়ে শিশিতে তেলটি ভরে নিন।

English summary

Best homemade oils for healthy hair in Bengali

By applying oil, it strengthens the hair from roots to tips. By adding natural ingredients, your path to recovering hair will increase.
X