গণেশ চতুর্থি: দূর্বা ঘাস ছাড়া গণেশ ঠাকুরের পুজো করা উচিত নয় কেন জানা আছে?


পুরাণে একটি গল্পের সন্ধান পাওয়া যায়। গল্পটি এই রকম...গণেশ ঠাকুর একদিন বেজায় গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সে সময় এক সুন্দরী কোনও এক অজানা কারণে গান গেয়ে দেবকে বার বার বিরক্ত করছিলেন। এক সময় সহ্য করতে না পেরে দেব সেই সুন্দরীকে ডেকে পাঠান, জিজ্ঞাস করেন এমনটা তিনি কেন করছেন! উত্তরে সেই রমনী জানান, তিনি গণেশ দেবকে বিয়ে করতে চান। কথাটা শোনা মাত্র বাপ্পা এতটা রেগে যান যে নিমেষে মহিলার সেই নিবেদনকে খারিজ করে দেন। এদিকে অপমানে আহত সেই সন্দরী, দেবের এমন ব্যবহার মানতে না পেরে গণপতিকে অভিষাপ দেন যে তাঁর কপাল সারাক্ষণ জ্বলতে থাকবে। যেই বলা অমনি গণেশ ঠাকুরের কপাল ভিষণ মাত্রায় জ্বলতে শুরু করে দেয়। কষ্টে এমন হাল হয় কি গণেয ঠাকুরের পক্ষে উঠে দাঁড়ান পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময় প্রায় ৮৮,০০০ সাধু ২১ টি দূর্বা ঘাস নিয়ে দেবের কপালে রাখেন। যেই না এমনটা করা, আমনি গণেশ ঠাকুরের সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। সেই থেকেই এমন নিয়ম হয়ে যায় যে বাপ্পার পুজো যখনই হবে, তখন সেখানে দূর্বা ঘাস থাকা চাইই-চাই!

এই কারণেই তো গণেশ চতুর্থির দিন ২১ টি দূর্বা ঘাস সহকারে দেবের অরাধনা করা উচিত। আসলে এমন করলে বাপ্পা এতটাই প্রসন্ন হন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে পরিবারে। শুধু তাই নয়, আরও বেশ কিছু উপকার মেলে। যেমন ধরুন: দুঃখ-কষ্ট সব দূর হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না। তবে গণেশ ঠাকুরের পুজো করার সময় দূর্বা ঘাসকে যেমন দেবের সামনে রাখতে হবে, তেমনি আরও কতগুলি নিয়ম মেনে চলা জরুরি, না হলে কিন্তু যতই পুজো করুন না কেন, কোনও ফলই পাবেন না। উল্টে বাপ্পাকে অসন্তুষ্ট করার কারণে নানা বিপদের খপ্পরে পরবেন!

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি হল...

১. গণেশ দেব নাচছেন এমন ছবি নয়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এমন ছবি বা মূর্তি বাড়াতে স্থাপন করলে নানা কারণে মানসিক অশান্তি বিঘ্নিত হয়। ফলে এক মনে দেবের অরাধনা করা মোটেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর মনোযোগ সহকারে যদি বাপ্পার পুজো করতে না পারেন, তাহলে যে কোনও ফলই পাওয়া যায় না, তা তো বলাই বাহুল্য! এই কারণেই গণেশ দেব নাচছেন এমন ছবি নয়, বরং দেব ধ্যানে বসে রয়েছেন এমন মূর্তি বা ছবি বাড়িতে স্থাপন করা উচিত।

২. গণেশ দেবের পিঠ যেন বাড়ির সরদর দরজার দিকে থাকে:

দেবের মূর্তি যখন স্থাপন করবেন, তখন এমনভাবে করবেন যাতে বাপ্পার পিঠ দরজার দিকে থাকে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে সর্বশক্তিমানের মুখ যদি বাড়ির ভিতরের দিকে থাকে, তাহলে সেই পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে খারাপ শক্তির প্রভাবও কমতে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যায় কমে।

৩. ভুলেও যেন মাটিতে রাখবেন না দেবের মূর্তি:

গণেশ ঠাকুর হলেন সর্বশক্তির আধার, আর গণেশ চতুর্থির সময় সেই অপার শক্তিকেই আপনি বাড়িতে অতিথি বানিয়ে নিয়ে আসছেন। তাই তো এই সময় দেবের যেমন বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত, তেমনি ঠাকুরের আসন পাতা উচিত কোনও সিংহাসন বা উঁচু কোনও জায়গায়। এমনটা করলে গণেশ ঠাকুর বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে ভক্তের জীবন সুখ এবং অনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

৪. এমন মূর্তি যার শুঁড় রয়েছে ডান দিকে:

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে ডান দিকে শুঁড় রয়েছে এমন মূর্তির পুজো নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে করতে হয়। আর যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে করা না যায়, তাহলে কিন্তু বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ফলে উপকার হওয়ার থেকে অপকার হয় বেশি। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে নানাবিধ বিপদ হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। তা হল, ডান দিকে শুঁড় রয়েছে এমন গণেশের মূর্তিকে "সিদ্ধিবিনায়ক" নামে ডাকা হয়ে থাকে। আর এমন মূর্তিকে যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে পুজো করতে পারেন, তাহলে কিন্তু অনেক উপকার মেলে।

৫. বাপ্পার শুঁড় যেন থাকে বাঁদিকে:

যে গণেশ টাকুরের শুঁড় বাঁদিকে রয়েছে, এমন মূর্তি বাড়িতে আনলে মা লক্ষ্মী বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে শ্রী গণেশ এবং মায়ের আশীর্বাদে ভক্তের মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি সুখ-সমৃদ্ধির ঝাঁপি কোনও সময় খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রায় পায়। তাই তো বলি বন্ধু, বাকি জীবনটা যদি সুখ-শান্তিতে কাটাতে হয়, তাহলে আগামী বৃহস্পতিবার গণেশ ঠাকুরের এমন মূর্তি বাড়িতে এনে পুজোর আয়োজন করতে ভুলবেন না যেন!

৬. বাপ্পার পায়ের কাছে এক বাটি চাল রাখা মাস্ট:

আসলে এমন বিশ্বাস রয়েছে যে গণেশ চতুর্থির পুজো চলাকালীন দেবের পায়ের সামনে যদি এক বাটি চাল রাখা যায়, তাহলে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে দেবের আশীর্বাদে কোনও দিন খাবারের অভাব হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়।

৭. শুঁড় ছুঁয়ে রয়েছে লাডডুকে:

খেয়াল করে দেখবেন গণেশ ঠাকুরের এমনও মূর্তি রয়েছে, যাতে শুঁড় ছুয়ে থাকে হাতে থাকা লাডডু বা মিষ্টিকে। এমন ধরনের মূর্তি বাড়িতে এনে রাখলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো। শুধু তাই নয়, সফলতা রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে।

৮. শুঁড় যখন একেবারে সোজা:

গণেশ ঠাকুরর শুঁড় ডান দিকে বা বাঁদিকে না থেকে যদি সোজা থাকে, তাহলে এমন মূর্তি কিনতে ভুলবেন না যেন! কারণ বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে এই ধরনের গণেশ মূর্তি বেজায় শুভ। তাই তো এমন ধরনের মূর্তি বাড়িতে এনে রাখলে কোনও ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে গৃহস্থের অন্দরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। মেলে অর্থনৈতিক সাফল্যও।

৯. মোদক বা মিষ্টির সংখ্যা:

নারকেল এবং চিনি দিয়ে তৈরি মোদক হল গণেশ ঠাকুরের বেজায় পছন্দের মিষ্টি। তাই তো বাপ্পার পুজো করার সময় এই মিষ্টিটি পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি কতগুলি মোদক পরিবেশন করলে গণেশ ঠাকুর বেজায় খুশি হন? শাস্ত্র মতে গণেশ ঠাকুরের পুজো করার সময় বিজোড় সংখ্যায় মিষ্টি পরিবেশন করতে হবে। এমনটা করলে দেখবেন উপকার পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

১০. বাথরুমের কাছাকাছি মূর্তি রাখবেন না যেন:

বাড়িতে ঠাকুর ঘর থাকলে সেখানে, নয়তো এমন জায়গায় বাপ্পার মূর্তি স্থাপন করবেন, তা যেন হয় বাছরুম থেকে অনেক দূরে। এমনকী ওয়াশ রুমের দেওয়াল ঘেঁষেও গণেশ ঠাকুরের ছবি বা মূর্তি রাখা চলবে না। কারণ এমনটা করলে বাড়িতে নেগেটিভ এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর একবার গৃহস্তে যদি খারাপ শক্তির প্রবেশ ঘটে যায়, তাহলে একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি নানাবিধ সমস্যায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতেও সময় লাগে না।

Read more about: বিশ্ব
Have a great day!
Read more...

English Summary

Lord Ganesha is worshipped with 21 blades of the grass on Ganesh Chaturthi each year. Durva is also known to attract the Ganapati Principle the most. The use of odd numbers (minimum of 21) of the grass further promotes the entry of the divine energy into the idol. Durva is tied together, dipped in water for freshness, and then offer to the deity’s feet first and then the rest of the body. This is said to attract Ganesha the best as the principle of a deity is strongest though the feet of an idol.