রাশি অনুসারে কোন রঙের গণেশের মূর্তি আনতে হবে বাড়িতে এবং তাঁকে কেমন প্রসাদই বা নিবেদন করতে হবে?


এর আগে কিছু লেখায় বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের কেমন ধরনের গণেশ মূর্তি বাড়িতে আনতে হবে এবং কোন রূপের পুজো করতে হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। কিন্তু এবার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এমন দুটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করবো, যা হয়তো এই বৃত্তটিকে সম্পন্ন করবে।

কী বিষয়? এক তো হল রাশী অনুসারে কেমন রঙের গণেশ ঠাকুরের পুজো করা উচিত, সে সম্পর্কে পাঠকের জানানোর চেষ্টা করা হবে, আর দ্বিতীয় বিষয়টি হল দেবের অরাধনা করার সময় কেমন ধরনের প্রসাদ দিলে বাপ্পা বেজায় খুশি হবেন এবং ঝুলি ভরিয়ে দেবের নানা আশীর্বাদে। তবে এত দূর পড়ার পর পাঠক হিসেবে একটা প্রশ্ন আপনাদের মনে জাগতেই পারে, তা হল কেন পড়বেন এই লেখাটি? তাহলে উত্তরে বলবো বন্ধু, বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ ভক্তিতে হাবুডুবু খেতে খেতে গণেশ ঠাকুর বা নানা দেব-দেবীর পুজো করেন ঠিকই, কিন্তু নিজ রাশি অনুসারে কী কী নিয়ম মেনে সেই পুজো করলে আরও বেশি মাত্রায় সুফল পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে জেনে ওঠার তাগিদটুকুও অনুভব করেন না। ফলে হাজারো দেব-দেবীর পুজো করার পরেও অনেকে মনের মতো সুফল পান না। তাই তো বলি বন্ধু, আপনিও যদি বাকি ৯০ শতাংশের মতো ভাবনা নিয়ে বেঁচে থাকেন, তাহলে কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি বাস্তবিকই গণেশ ঠাকুরের পুজো করার মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সুফল ভোগ করতে চান, তাহলে একবার এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলতে দেরি করবেন না যেন!

তাহলে এখন প্রশ্ন হল, রাশি অনুসারে কেমন রঙের দেবের মূর্তি কিনতে হবে এবং কেমন প্রসাদই বা নিবেদন করতে হবে গজাননকে, চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে...

১. মেষরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর মঙ্গল গ্রহের প্রভাব একটু বেশিই থাকে। তাই তো এদের লাল রঙের মূর্তি বাড়িতে এনে পুজো করতে হবে এবং প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করতে হবে লাডডু। তাহলেই দেখবেন মনের অতলে নুড়ি-পাথরের মতো জমতে থাকা প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না।

২. বৃষরাশি:

বিশেষজ্ঞদের মতে বৃষরাশির উপর শুক্রের প্রভাব বেশি থাকার কারণে এদের লাল ঝিনুক দিয়ে তৈরি গণেশ মূর্তি স্থাপন করতে হবে। আর প্রসাদ? এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এরা যদি ঘি এবং মিছরি সহকারে দেবের অরাধনা করেন, তাহলে নানাবিধ উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৩. মিথুনরাশি:

বুধের প্রভাব বেশি থাকার কারণে এই রাশির জাতক-জাতিকারা যদি আগামী কাল সাদা রঙের গণেশ মূর্তির পুজো করেন, তাহলে উপকার মিলতে সময় লাগে না। তবে এক্ষেত্রে আরও একটা জিনিস মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, তা হল বাপ্পার অরাধনা করার সময় মুগ ডাল দিয়ে তৈরি লাডডু যেমন পরিবেশন করতে হবে, তেমনি গণেশ ঠাকুরের পাশাপাশি মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতেও ভুলবেন না যেন!

৪. কর্কটরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর চাঁদের প্রভাব বেশি থাকার কারণে এদের সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি বাড়িতে এনে পুজো করা উচিত, আর প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা উচিত ক্ষীর এবং মাখন। এই নিয়মটা মেনে যদি আগামী কাল পুজো করতে পারেন, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

৫. সিংহরাশি:

এই রাশির রুলিং প্ল্যানেট হল সূর্য। তাই তো এদের লাল রঙের গণেশ ঠাকুরের মূর্তির পুজো করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আর যদি ভোগের প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে বলতে হয়, আপনারা মতিচুরের লাডডু সবযোগে দেবের আরাধনা করুন, দেখবেন সুফল পাবেই পাবেন!

৬. কন্যারাশি:

গণেশ চতুর্থির দিন এই রাশির অধাকারীদের শুধু গণেশ ঠাকুরের নয়, সেই সঙ্গে মা লক্ষ্মীরও আরাধনা করতে হবে। কারণ এদের উপর যেহেতু বুধ গ্রহের প্রভাব খুব বেশি থাকে, তাই এই নিয়মটি মেনে বাপ্পার অরাধনা করলে দেবের আশীর্বাদ মিলতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, আপনাদের প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করতে হবে লাডডু।

৭. তুলারাশি:

এই রাশির রুলিং প্ল্যানেট যেহেতু শুক্র গ্রেহ, তাই এদের হালকা খয়েরি রঙের গণেশের মূর্তি বাড়িতে প্রতিষ্টিত করতে হবে এবং দেবের সামনে প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করতে হবে নারকেল দিয়ে বানানো যে কোনও পদ।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ কি আগামী কাল গণেশ পুজো করার কথা ভাবছেন? তাহলে বন্ধু, ঝিনুক দিয়ে তৈরি লাল রঙের গণেশের মূর্তির আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন! কারণ আপনাদের উপর মঙ্গল গ্রহের প্রভাব খুব বেশি মাত্রায় থাকে, তাই তো লাল রঙের গণেশ মূর্তির পুজো করলে নানাবিধ সুফল মিলতে সময় লাগে না। আর যদি প্রসাদের কথা জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে দেবকে বেসনের লাডডু পরিবেশন করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

৯. ধনুরাশি:

আপনাদের উপর বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাব খুব বেশি থাকে। তাই তো এই রাশির জাতক-জাতিকাদের হলুদ রঙের মূর্তি স্থাপন করে পুজো করা উচিত, আর প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা উচিত বেসনের লাডডু।

১০. মকররাশি:

আপনাদের শনি যেহেতু তুঙ্গে, তাই কাল যদি গণেশ ঠাকুরের অরাধনা করার কথা ভেবেই থাকেন, তাহলে নীল রঙের ঠাকুরের মূর্তি কিনতে ভুলবেন না যেন! আর প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করবেন কালো তিল দিয়ে তৈরি লাডডু। আসলে এই নিয়মটি মানলে গণেশ দেব তো প্রসন্ন হবেনই, সেই সঙ্গে আপনার উপর শনির বক্র দৃষ্টি পরার আশঙ্কাও যাবে কমে। ফলে বাকি জীবনটা যে বেজায় আনন্দেই কাটবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!

১১. কুম্ভরাশি:

আপনারা যদি আগামী কাল কালো পাথর দিয়ে তৈরি গণেশ মূর্তির অরাধনা করতে পারেন, তাহলে কিন্তু নানাবিধ সুফল মেলার সম্ভাবনা বাড়বে। কারণ এই রাশির উপর শনির প্রভাব বেশি থাকে। তাই তে গণেশ ঠাকুর এমন মূর্তির অরাধনা করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। আর প্রসাদ? এই রাশির জাতক-জাতিকাদের সবুজ রঙের ফল নিবেদন করে করতে হবে দেবের পুজো।

১২. মীনরাশি:

আপনাদের উপর যেহেতু বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাব খুব বেশি থাকে, তাই এই রাশির অধিকারীদের সবুজ রঙের গণেশ ঠাকুরের মূর্তির অরাধনা করা উচিত। আর প্রসাদ হিসেবে যদি মধু নিবেদন করতে পারেন, তাহলে তো সুফল মিলবে একেবারে হাতে-নাতে!

Read more about: বিশ্ব
Have a great day!
Read more...

English Summary

Son of Lord Shiva and Goddess Parvati, Lord Ganesha brings success in every venture. The annual festival of Ganesha Chaturthi is the most auspicious time to offer prayers to him. Astrologers say that during the festival, we should choose an idol for offering prayers during the festival on the basis of our zodiac sign. Not just this, he should be offered Bhoga also as per the devotee's zodiac.