গণেশ চতুর্থি: রাশি অনুসারে গণেশ ঠাকুরের কোন অবতারের পুজো করলে বেশি সুফল মিলবে জানেন কি?


হিন্দু শাস্ত্রে গণেশ ঠাকুরের ৩২ টি অবতারের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই সে বিষয়ে খোঁজ না রেখেই বছরের পর বছর ধরে গণেশ চতুর্থির দিন বাপ্পার অরাধনা করে যান। এতে টাকা এবং সময় নষ্ট হয় বৈকি, উপকার কিছুই হয় না।

দেবের প্রতিটি অবতারের একটি আলাদা অর্থ রয়েছে, রয়েছে মাহাত্মও, এবং ১২ টি রাশি বা মুন সাইনের সঙ্গেও নানা ভাবে এই সব অবতারের যোগ রয়েছে। তাই তো রাশি অনুসারে গণেশ ঠাকুরের নির্দিষ্ট অবতারের অরাধনা করলে বেশি মাত্রায় সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত কর্মক্ষেত্র থেকে সামাজিক জীবন সবক্ষেত্রেই সম্মান বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটে চোখে পরার মতো। শুধু তাই নয়, গণেশ চতুর্থির দিন দেবের ঠিক ঠিক অবতারের আরাধনা করলে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন- পরিবারে সুখ-শান্তি বিগ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানাবিধ ঝামেলা মিটে যায় এবং জ্ঞান-বুদ্ধির বিকাশ ঘটে চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু, আগামী বৃহস্পতিবার, গণেশ চতুর্থির দিন যদি বাপ্পাকে বাড়িতে এনে তাঁর পুজোর আয়োজন করার কথা ভেবেই থাকেন, তাহলে এই প্রবন্ধটি একবার পড়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন!

তাহলে এখন প্রশ্ন হল রাশি অনুসারে গণপতির কোন অবতারের পুজো করা উচিত?

১. মেষরাশি:

জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের "বক্রতুন্ডা" অবতারের অরাধনা করা উচিত।

২. বৃষরাশি:

আপনি যদি বৃষরাশির জাতক হয়ে থাকে, আর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন গণেশ পুজো করার, তাহলে দেবের "একাদন্ত" অবতারের অরাধনা করতে ভুলবেন না যেন! কারণ শাস্ত্র মতে এই রাশির অধিকারীরা যদি বাপ্পার এই বিশেষ অবতারটির অরাধনা করেন, তাহলে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না।

৩. মিথুনরাশি:

শাস্ত্র মতে আপনারা যদি বাপ্পার "কৃষ্ণ পিগাক্ষ" রূপের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে কিন্তু বাকি জীবনটা সুখে-শান্তিতে কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

৪. কর্কটরাশি:

এদের গণেশ ঠাকুরের "গজবকত্র" রূপের আরাধনা করতে হবে। কারণ এমনটা অনেকে বিশ্বাস করেন যে কর্কটরাশির জাতক-জাতিকারা গণেশ চতুর্থি ছাড়াও যদি দেবের এই বিশেষ অবতারের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে যে কোনও ধরনের দুঃখ দূর হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি মনের সব ইচ্ছাও পূরণ হয় চোখের পলকে।

৫. সিংহরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের অরাধনা করতে হবে দেবের "লাম্বোধর" অবতারের।

৬. কন্যারাশি:

আপনারা কি গণেশ চতুর্থি উদযাপন করার কথা ভাবছেন? তাহলে জেনে রাখুন বন্ধু এই রাশির সঙ্গে গণপতির "বিকট" রূপের যোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, আপনারা যদি দেবের এই বিশেষ অবতারের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে সর্বশক্তিমনের আশীর্বাদ লাভ করার সম্ভাবনা কিন্তু অনেকাংশে বেড়ে যায়।

৭. তুলারাশি:

গণেশ ঠাকুরের "বিগ্ন রাজেন্দ্র" রূপের কথা শুনেছেন নাকি? কেন এমন প্রশ্ন করছি তাই ভাবছেন নিশ্চয়? আসলে বন্ধু জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে তুলারাশির জাতক-জাতিকারা যদি গণপতির এই রূপের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে দেবের আশীর্বাদে জীবনের ছবিটা আরও রঙিয়ে উঠতে সময় লাগে না।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

এই রাশির অধিকারীদের "ধুম্র বর্ন" নামক অবতারটির আরাধনা করা উচিত। কারণ এই রাশির সঙ্গে গণেশ ঠাকুরের এই বিশেষ অবতারটির যোগ বেজায় নিবিড়।

৯. ধনুরাশি:

আপনি কি ধনুরাশির জাতক? তাহলে বন্ধু আগামী বৃহস্পতিবার, গণেশ চতুর্থির দিন যদি গণেশ ঠাকুরের পুজো করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে "বাল চন্দ্র" রূপের আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

১০. মকররাশি:

পার্বতী পুত্রের "বিনায়ক" রূপের আরাধনা যদি আপনারা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন নানাবিধ উপকার মিলতে সময় লাগবে না।

১১. কুম্ভরাশি:

গণেশ উৎসবের দিন "গণপতি বাপ্পা মরিয়া" এই স্তোত্রটি পাঠ করতে ভুলবেন না যেন! কেন এমন পরামর্শ দিচ্ছি, তাই ভাবছেন নিশ্চয়? আসলে বন্ধু, শাস্ত্র মতে এই রাশির জাতক-জাতিকারা যদি দেবের গণপতি রূপের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে সবথেকে বেশি মাত্রায় উপকার পাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

১২. মীনরাশি:

আপনারা যদি গণেশ ঠাকুরের পুজো করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে "গজানন" অবতারের অরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

গণেশ উৎসবের দিন দেবের কোন অবতারের অরাধনা করলে বেশি সুফল মিলতে পারে, সে সম্পর্কে না হয় জানলেন। কিন্তু একথা জানেন কি বিশেষ কিছু নিয়ম না মেনে যদি বাড়িতে গনেশ ঠাকুরের মূর্তি স্থাপন করেন, তাহলে কিন্তু কোনও সুফল মেলার সম্ভাবনা একেবারে থাকে না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে নিয়মগুলি মাথায় রাখা জরুরি, সেগুলি হল...

১. বাড়ির কোথায় স্থাপন করতে হবে গণেশ মূর্তি:

বাপ্পার আশীর্বাদ লাভ করতে বাড়ির কোন স্থানে দেবের মূর্তি স্থাপন করতে হবে, সে সম্পর্কে বেশির ভাগই জানেন না। তাই তো দিনের পর দিন সমস্ত উপাচার মেনে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করার পরেও তেমন কোনও ফল মেলে না। তাই এখন প্রশ্ন হল বাড়ির কোখায় রাখতে হবে দেবের মূর্তি বা ছবি? বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়ির পূর্বদিকে যদি গণেশ ঠাকুরর মূর্তি রাখা যায়, তাহলে সবথেকে বেশি সুফল মেলে। আর যদি এমনটা সম্ভব না হয়, তাহলে উত্তর দিকেও রাখতে পারেন দেবের ছবি বা মূর্তি।

২. ঠাকুর যেন বসে থাকেন:

বাড়ির ঠাকুর ঘরে গণেশ মূর্তি স্থাপন করার সময় একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল গণেশ ঠাকুর বসে রয়েছেন, এমন ছবি বা মূর্তি বাড়িতে রাখতে হবে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে আসন গ্রহণ করে রয়েছেন এমন মূর্তি রাখলে গৃহস্থের প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ সুফল মিলতে সময় লাগে না।

৩. মোদক এবং বাহন:

গণেশ ঠাকুরের হাতে রয়েছে মোদক এবং পায়ের কাছে আসন নিয়েছে তার বাহন, এমন মূর্তি বাড়িতে রাখা উচিত। কারণ শাস্ত্র মতে এই ধরনের মূর্তি বাড়িতে রাখলে সুখ-শান্তি যেমন বজায় থাকে, তেমনি মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

Read more about: বিশ্ব
Have a great day!
Read more...

English Summary

people of different Rashi should worship different form of Lord Ganesha. So, go ahead and choose your Ganesh.