নরক চতুর্দশীর কিংবদন্তী

By: Anindita Sinha
Subscribe to Boldsky

পাঁচদিনব্যাপী দীপাবলির, দ্বিতীয়দিনটি নরক চতুর্দশী নামে পরিচিত, বা "ছোট দীপাবলি" নামেই জনপ্রিয়। হিন্দুমাস কার্তিক মাসের ১৪ তম দিনটি হল, নরক চতুর্দশী। রাক্ষসরাজ নরকাসুরের কে পরাজিত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়লাভের স্মৃতিচারণ করতে, এই উৎসব উদযাপিত করা হয়। এও বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে ১৪ বছরের বনবাসের পর প্রভু রামচন্দ্রের ফিরে আসার সুসংবাদ নিয়ে পবনপুত্র হনুমান অযোধ্যায় পৌঁছেছিলেন।

ভারতের বিভিন্ন অংশে এই উৎসব পালিত হয়। খুবই স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে নরক চতুর্দশীর ধার্মিক রীতি ও কিংবদন্তীও আলাদা আলাদা। দক্ষিণ ভারতের, লোকেরা সিঁদুর ও তেল দিয়ে একধরণের লেপ বানানোর জন্য অনেক ভোরবেলাতেই ঘুম থেকে উঠে পরেন। এটিকে তারা "উবটন" বলেন এবং নিজেদের কপালে এটি লাগিয়ে তারা স্নান করে নেন।

নরক চতুর্দশী

একটি সাদা কুমড়োকে ভেঙ্গে তাতে সিঁদুর বা কুমকুম লাগানো হয়। কুমড়োর এই ভেঙে ফেলা, রাক্ষসরাজ নরকাসুরের মস্তকের প্রতিরূপ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কপালে যে রক্ত লেপে নিয়েছিলেন তারই প্রতীকস্বরূপ এই তেল ও কুমকুম।

পশ্চিমবঙ্গে লোকেরা এইদিনে ১৪ রকমের আলাদা আলাদা শাক রান্না করেন এবং সন্ধ্যায় চোদ্দ বাতি অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন, যা সূচিত করে চতুর্দশী-কে (হিন্দুমাসের ১৪ তম দিন)। পরেরদিন, অমবস্যায় কালীপূজা করা হয়ে থাকে। এইভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ নরকচতুর্দশী, সারা ভারতব্যাপী পালন করা হয়ে থাকে।

নরক চতুর্দশী

নারক চতুর্দশীর পৌরানিক কাহিনীঃ কথিত আছে, ভগবান ইন্দ্রকে পরাজিত ও দেবমাতা অদিতির (সকল দেব-দেবীর জননী) কানের বালা ছিনিয়ে নিয়ে, রাক্ষসরাজ নরকাসুর, প্রাগজ্যোতিষপুরের (নেপালের দক্ষিণে) শাসক হয়ে বসেন। নরকাসুর, দেবতা ও ঋষিমুনিদের ১৬০০০ কন্যাদেরও তার অন্তঃপুরে বন্দী করে রাখেন।

নরক চতুর্দশী

নরক চতুর্দশীর আগের দিন, শ্রী কৃষ্ণ নরকাসুরের নিধন করে, ঐ কুমারী কন্যাদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন এবং দেবমাতা অদিতির বহু মূল্যবান কানবালাও উদ্ধার করেন। এইভাবেই, অশুভের ওপর শুভ- এর জয়কে উদযাপন করতেই, নরক চতুর্দশী পালিত হয়ে থাকে।

রাজা বালীর কাহিনীঃ আরেকটি কিংবদন্তীতে রয়েছে, রাজা বালীর কথা, যিনি অত্যাধিক বলশালী এবং ভগবানদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রতিপত্তি খর্ব করতে ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার ধারণ করেন এবং রাজা বালীর কাছে শুধুমাত্র নিজের তিন পদক্ষেপ সমান জমি ভিক্ষা করেন।

নরক চতুর্দশী

নিজের দানশীলতার জন্য খাত রাজা বালী এই ভিক্ষা মঞ্জুর করেন। ঠিক সেই মুহুর্তে সেই ক্ষুদ্র মানুষটি নিজেকে, শর্বশক্তিমান ভগবান বিষ্ণুতে রুপান্তরিত করে নেন। ভগবান বিষ্ণু, তাঁর প্রথম পদক্ষেপ রাখেন, স্বর্গ-এ, দ্বিতীয় পদক্ষেপে মর্ত্য-এ এবং, তৃতীয় পদক্ষেপ কোথায় রাখবেন তা জিজ্ঞাসা করেন, রাজা বালীকে। বালী নিজের মাথা পেতে দেন। রাজার মাথায় পা রেখে ভগবান বিষ্ণু তাকে নরকে ঠেলে দেন। একইসময়ে রাজার উদারতার কথা মনে রেখে, ভগবান বিষ্ণু তাকে জ্ঞানের প্রদীপ দান করেন এবং বছরে একবার মর্ত্যে ফিরে এসে কোটি কোটি প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দেন। এই প্রদীপই অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে এবং প্রেম ও জ্ঞানের প্রভা বিস্তার করে। এইভাবেই নারক চতুর্দশীতে, অশুভের ওপর শুভ, অন্ধকারের ওপর আলো এবং অজ্ঞানতার ওপর জ্ঞানের বিজয়কে উদযাপন করা হয়।

Story first published: Wednesday, October 26, 2016, 13:20 [IST]
English summary
After Dhanteras, the second day of Diwali is known as Narak Chaturdashi or more popularly as 'Choti Diwali'. Narak Chaturdashi is the 14th day of the Hindu month of Kartik. This festival is observed to commemorate the victory of Lord Krishna over the demon king, Narakasur. It is believed that on the day of Narak Chaturdashi, Lord Hanuman reached Ayodhya with the news of Lord Ram's return from exile after 14 long years.
Please Wait while comments are loading...