জানেন কি ঘুমনোর সময় বাঁদিক ফিরে শুলে শরীরের দারুন সব উপকার হয়!

Posted By:
Subscribe to Boldsky

শরীর ভাল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুমের যে প্রয়োজন রয়েছে, সে কথা আজ সবাই জানেন। কিন্তু ঘুমনোর সময় বাঁদিক ফিরে শোয়ার পরামর্শ কেন দেন চিকিৎসকেরা?

একাধিক গবেষাণার পর জানা গেছে এইভাবে শুলে আমাদের শরীরের অন্দরে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়, যা একাধিক রোগের প্রকোপকে নিমেষে কমিয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে সার্বিকবাবে শরীরকে চাঙ্গা রাখেতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়, ঘুমনোর সময় তো আমরা সচেতন থাকি না। তাহলে কীভাবে বুঝবো যে বাঁদিক ফিরেই সারা রাত ঘুমিয়েছি? এক্ষেত্রে একটা সহজ পদ্ধতির সাহায্য0 নিতে পারেন।

ঘুমনোর আগে বাঁদিক ফেরার পর পিটের কাছে একটা টেনিস বল রেখে দেবেন। এমনটা করলে ঘুমনোর সময় আপনি যখনই বাঁদিক থেকে সোজা বা ডান দিকে ঘুরতে চাইবেন তখনই বলটা আপনার পিঠে লাগবে এবং আপনি পুনরায় বাঁদিকে ফিরে যাবেন। আর যদি ভাবেন এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে রাতের ঘামটাই বিগড়ে যাবে তাহলে আরেকটা পদ্ধতি আছে। ঘুমনোর আগে পিঠের কাছে এবার বল না রেখে একটা বালিশ রেখে দিন। এমনটা করলেও ঘুমনোর সময় আপনি বাঁদিক থেকে ডানদিকে ঘুরতে পারবেন না। কয়েকদিন এই নয়ম দুটির কোনও একটি মানলেই দেখবেন বাঁদিক ফিরে শোয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে।

এবার নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে বাঁদিক ফিরে শুলে কী কী শারীরিক উপকার পাওয়া যায়? চলুন সময় নষ্ট না করে জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

১. গ্যাস-অম্বলের কারণে হওয়া বুকের অস্বস্তি কমে:

১. গ্যাস-অম্বলের কারণে হওয়া বুকের অস্বস্তি কমে:

রাতে পাত পেরে খাওয়ার পর বুকে অস্বস্তি হচ্ছে? অ্যান্টাসিড খেয়েও কাজ হচ্ছে না? কোনও চিন্তা নেই। ঘুমনোর সময় শুধু বাঁদিক ফিরে নিন। তাহলেই দেখবেন কষ্ট কমে যেতে শুরু করবে। একাধিক গবেষণা কিন্তু এই যুক্তিকে মান্যতা দিয়েছে। তাই নিশ্চন্তে এই ঘরোয় পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন।

২. নাক ডাকা বন্ধ হয়:

২. নাক ডাকা বন্ধ হয়:

কেউ নাক ডাকলেই একটা কোথা বেশ শোনা যায় যে, "পাশ ফিরে শুয়ে পর, দেখবি নাকের গর্জন কমে যাবে।" কিন্তু কোন দিকে ফিরে শুলে যে কাজ হবে, তা কিন্তু কারোরই জানা নেই। এক্ষেত্রে বাঁদিক ফিরে শুলে দারুন উপকার মেলে। মেডিকেল ডেলিতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় কারণে যাদের রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় না, তারা যদি এই সহজ পদ্ধতিটিকে কাজে লাগান তাহলে দারুন উপকার মেলে। এবার বুঝছেন তো ছোট ছোট শারীরিক মুভমেন্ট কতটা প্রভাব ফেলে আমাদের দেহের উপর।

৩. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৩. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

শরীরে নানাবিধ অঙ্গের অভ্যাস হার্টের গুরুত্ব যে সবথেকে বেশি তা বলে বোঝাতে হবে না। তাই তো হার্টকে চাঙ্গা রাখাটা আমাদের সবাই প্রথম কাজ। আর যে ভাবে গত এক দশকে কম বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্টের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পয়েছে, তাতে আরও বেশি সাবধনা হওয়াটা জরুরি। প্রসঙ্গত, হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসতে পারে। তাই আপনি যদি বেশি দিন পর্যন্ত আপনার হার্টকে ঠিক রাখতে চান, তাহলে আজ থেকেই বাঁদিকে ফিরে ঘুমনোর অভ্যাস করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

৪. লিম্ফ নোডের উন্নতি ঘটে:

৪. লিম্ফ নোডের উন্নতি ঘটে:

আমাদের অভ্যাস অনেকেই শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির বিষয়ে কোনও খোঁজই রাখেন না। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতে এই লিম্ফ নোড বিশেষ ভূমিকা পলান করে থাকে। প্রসঙ্গত, একাধিক হেল্থ জার্নালে এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, বাঁ দিকে ফিরে শুলে শরীর অনেক বেশি সময় পায় টক্সিন বের করে দেওয়ার। আর একথা তো সকলেরই জানা আছে যে শরীর যত টক্সিন মুক্ত হবে, তত রোগের প্রকোপ কমবে।

৫. রক্তা চলাচলের উন্নতি ঘটে:

৫. রক্তা চলাচলের উন্নতি ঘটে:

আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সচল থাকার পিছনে রক্ত চলাচলের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ অক্সিজেন সমৃদ্ধ ব্লাড যখন বিভিন্ন অঙ্গে গিয়ে পৌঁছায়, তখনই তাদের কর্মক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় রক্তনালীতে জমে থাকা ময়লা (কোলেস্টেরল) ধুয়ে যায় তখনই, যখন ব্লাড ফ্লো স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকে। আর একথা শুনলে হয়তো আপনারা অবাক হয়ে যাবেন যে বাঁদিক ফিরে শুলে রক্তচলাচল মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৬. ফিটাসে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়:

৬. ফিটাসে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়:

ভাবী মায়েরা বাঁদিক ফিরে শুলে ভ্রূণে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায়। ফলে মা এবং বাচ্চার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। তাই আপনি যদি চান অপনার বাচ্চা সুস্থ-সবল হোক, তাহলে গর্ভাবস্থায় কখনও বাঁদিক ফিরে শুতে ভুলবেন না।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে বাঁদিক ফিরে শুলে আমাদের হজম ক্ষমতা ভাল হতে শুরু করে দেয়। ফলে বদহজমের মতো রোগ একেবারে সেরে যায়। আসলে এইবাবে শুলে খাবার দ্রুত ক্ষুদ্রান্ত থেকে বৃহদন্ত্র পৌঁছে যেতে পারে। ফলে হজমের সমস্যা হওয়ার কোনও সুযোগই থাকে না।

Read more about: ঘুম, শরীর
Story first published: Monday, May 8, 2017, 13:42 [IST]
English summary
here are several easy and effective techniques you can use to get in the habit of sleeping on your left side. Some people recommend sewing a tennis ball onto the back of your old pajamas. Every time you start to roll onto your back during the night, the tennis ball stops you, forcing you to return to the side.
Please Wait while comments are loading...